নিজস্ব প্রতিবেদক
‘ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও জামিনসংক্রান্ত তথ্য’ শিরোনামে পুলিশের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ মাসে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত এমন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৪৭২। এদের মধ্যে ৩২ হাজার ৩৭১ জন জামিন পেয়েছেন। অর্থাৎ মোট প্রায় ৭৩ শতাংশ আসামির জামিন হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল বেড়েছে। এ অবস্থায় পুলিশ সদর দপ্তর গত বছরের পাঁচই আগস্টের পর থেকে এ বছরের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে গ্রেপ্তার ও জামিনের তথ্য যাচাই করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের সাম্প্রতিক কয়েকটি বৈঠকেও আওয়ামী লীগের মিছিলের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে পুলিশের তৎপরতায় ঘাটতির পাশাপাশি গ্রেপ্তারকৃতদের বড় অংশ জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে, এমন কথাও বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, জামিনে বের হয়ে অনেকে আবার সরকারবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই আসামিরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কালের বিভিন্ন মামলা এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতন-পরবর্তী সময়ে মিছিল বা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের আটটি রেঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে চট্টগ্রামে। ১৩ মাসে এই রেঞ্জে গ্রেপ্তার হন সাত হাজার ৮২৩ জন। এর মধ্যে জামিন পেয়েছেন ছয় হাজার ২৭৫ জন।
আর সবচেয়ে কম গ্রেপ্তার হয়েছে সিলেট রেঞ্জে। যেখানে এই সময়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা এক হাজার ৩৯৮, আর জামিন মিলেছে এক হাজার ১৭৪ জনের।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন গণমাধ্যমে বলেন, আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। জামিনের এখতিয়ার সম্পূর্ণভাবে আদালতের। প্রমাণাদি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে পুলিশের ছোটখাটো কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে।
তিনি আরো বলেন, এগুলোর বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সব সময় তদারকি করছেন। কারণ, প্রকৃত অপরাধীরা জামিনে বের হয়ে পুরোনো অপরাধে ফিরলে তাঁদের আবার ধরতে পুলিশেরই ভোগান্তি বাড়ে।



