আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে এক বর্ণাঢ্য প্রীতি সম্মেলনের মাধ্যমে তিন দশকের এই পথচলাকে স্মরণ করা হয়। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে অ্যামচ্যামের অবদানের কথা তুলে ধরেন দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি। আগামী পাঁচ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণে অ্যামচ্যামের লক্ষ্যকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন তিনি। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই বিনিয়োগ যেন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক নিয়মকানুনের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর তিনি জোর দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন অ্যামচ্যামকে অভিনন্দন জানিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আগামী দিনগুলোতে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুদৃঢ় আশা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত তিন দশক ধরে অ্যামচ্যাম মার্কিন সরকারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও পূর্বতন নেতৃত্বের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। আগামী দুই বছরের জন্য নির্দিষ্ট মাইলফলকসহ একটি সুনির্দিষ্ট জ্বালানি রোডম্যাপ তৈরির দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ, মেধা স্বত্ব সংরক্ষণ, সাইবার নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্কারের বাস্তবায়নে জোর দেন চেম্বার সভাপতি।
অনুষ্ঠানে অ্যামচ্যামের সহ-সভাপতি ও মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলাউদ্দিন আহমেদ বাণিজ্য খাতের বিশেষ অবদানকে সম্মানিত করতে ‘অ্যামচ্যাম এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন। সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যামচ্যামের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার হাবিব ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে টাইটানিয়াম পার্টনার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকসহ গোল্ড ও সিলভার পার্টনারদের বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়। পলাশ নূর ও তাসফির সঙ্গীত পরিবেশনা “৩০ ইয়ার্স ইন ৩০ মিনিটস: দ্য লাইভ টাইম জার্নি”-র মধ্য দিয়ে ৩০ বছর পূর্তির এই উদ্যাপন পূর্ণতা পায়।



