― Advertisement ―

১৭ বছর পেরোলেও উপকূলবাসীর দুঃস্বপ্ন কাটেনি

মো: আল-আমিন, পটুয়াখালি

“আবহাওয়া খারাপ হলে আজও মনে হয় সিডর আসবে”

আজ ১৫ই নভেম্বর। ২০০৭ সালের এই দিনে দেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হেনেছিল সুপার সাইক্লোন ‘সিডর’। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলাকে লন্ডভন্ড করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজারো মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় ঘূর্ণিঝড়টি। দীর্ঘ সতেরো বছর পেরোলেও পটুয়াখালী উপকূলের বাসিন্দাদের সেই দুঃস্বপ্ন কাটেনি। আবহাওয়া খারাপ হলে এসব বাসিন্দাদের আজও মনে হয় সিডর আসবে ।

সরকারি তথ্যমতে , সুপার সাইক্লোন ‘সিডর’ এর আঘাতে একদিনে ৪৬৬ জন মানুষ প্রাণ হারায় এবং ২১১ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। প্রায় ৩,২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয় এবং ১,০০,০০০-এরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। সিডরের পর পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হলেও, এই ভয়াবহ স্মৃতির সঙ্গী হয়ে এখনও আতঙ্কের ছায়া রয়েই গেছে। এছাড়া ঘরবাড়ি, সড়ক, স্কুল, কলেজ, এবং মৎস্য খাত প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন এনজিও যৌথভাবে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করলেও, সিডরের ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

পটুয়াখালীর স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেলিম (৪৫) বলেন, “সিডরের দিনটি ভুলতে পারি না। সেদিন অনেক কিছু হারিয়েছি। আবহাওয়া খারাপ হলেই আজও মনে হয় সিডর আবার আসবে।”

আরেক বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (৫২) জানান, “সব কিছু হারানোর পর, আমরা যখন ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াচ্ছিলাম, তখন মনে হয়েছিল আর কিছুই হবে না। এখন পরিস্থিতি অনেক ভালো হলেও, সিডরের ভয় আমাদের মনে থেকে যায়।”

সিডরের রাতে ছেলেকে হারাতে হয়েছিলো রহিমা বেগমকে (৬০) । সিডরের দুর্বিষহ স্মৃতিকে মনে করে বলেন, “সিডরের রাতে আমার ছেলে হারিয়ে যায়। অনেক খুঁজেছি, কোথাও পাইনি। সেই রাতের কথা মনে হলে এখনো বুক ফেটে কান্না আসে। আমার সন্তানকে কখনো খুঁজে পাইনি, কিন্তু আজও সে ফিরে আসবে সেই আশায় বসে থাকি।”

স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান , সিডরের পর উপকূলবাসীর প্রধান দাবি ছিল টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, যা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। পটুয়াখালী জেলা দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হওয়ায় তাই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন জানান, “ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামতের কাজ চলছে।” উপকূলবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।