নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চর মোন্তাজ ইউনিয়নের উত্তর চর মোন্তাজ গ্রামে গত এক বছর আগে নির্মাণ করা সেতুর সংযোগ সড়ক ও সংযোগ সড়ক সুরক্ষা দেয়াল (গাইড ওয়াল) ধসে পড়ছে।কোন সময় পুরো গাইড ওয়াল ধসে পড়ে সেতুটি চরম হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রতিদিন সেতুটি দিয়ে দুই পাড়ের শত শত মানুষের চলাচল করার পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় রিমাল পরবর্তী ভারী বর্ষনের পর থেকে নতুন নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কের মাটি সরে গিয়ে সড়কে ফাটলসহ গাইড ওয়াল ধসে পড়তে শুরু করে। ধসে পড়া রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিন দিন সেতুটি ঝুঁকিতে পড়ছে। এই অবস্থায় স্থানীয় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, চর মোন্তাজ ইউনিয়নের চর লক্ষী ও চর মারগ্যারেট গ্রামবাসিদের সহজে ইউপি কার্যালয়ে যাতায়াতের পথ এইটি। এই সড়কের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এম এ মতিনের বাড়ি সংলগ্ন খালের ওপর গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
এলজিইডি, রাঙ্গাবালী কার্যালয় জানায়, ইউনিয়ন-উপজেলা সংযোগ সড়কের অনুর্ধ ১০০ মিটার ব্রিজ প্রকল্পের আওতায় ৬৬ মিটারের একটি সেতু ও ৩৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সংযোগ সড়ক রক্ষায় নির্মাণ করা হয় গাইড ওয়াল। এতে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৬ কোটি টাকা। প্রায় এক বছর আগে ঠিকাদার সেতু ও সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করেছে।
স্থানীয় ইজিবাইক চালক মো, সলেমান বলেন, সেতুটি নির্মাণের এক বছরও যেতে পারে নাই। এর আগেই সংযোগ সড়ক বৃষ্টিতে ধসে পড়েছে। সংযোগ সড়ক খালে ধসে পড়া ঠেকাতে গাইড ওয়াল নির্মাণ করলেও তা টিকসই হয়নি। এখন আমাদের ঝুঁকি নিয়ে সংযোগ সড়ক পেরিয়ে সেতুতে ওঠতে হয়। দ্রুত সেতুটির সংযোগ সড়ক ও গাইডওয়ালের সংস্কার করা না হলে আবারও বর্ষা মৌসুমে সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়বে। তখন মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
উত্তর চরমোন্তাজ গ্রামের বাসিন্দা বাহাদুর ইসলাম বলেন, নির্মাণ কাজ কাজ করার ৬-৭ মাস পরই ধসে পড়ে সেতুটির সংযোগ সড়ক ও গাইডওয়াল। ভারী বর্ষণের কারণে সেতুর সংযোগ সড়ক ও গাইডওয়াল ভেঙে পড়ছে। সংযোগ সড়কের মাটির কাজ ঠিকমতো না হওয়ায় মাটি সরে গিয়ে এমনটা হয়েছে।
যদি দ্রুত সংস্কার কাজ না করা হয় তাহলে সেতুটি দিয়ে চলাচল করতে ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই দ্রুত সংস্কার করার দাবি তাদের।
ঠিকাদারের প্রতিনিধি মো.জামাল হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমেল ও পরবর্তী ভারী বর্ষনের কারণে এটি হতে পারে। তবে আমরা দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করবো।
এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে ঠিকাদারের সাথে এনিয়ে কথা হয়েছে। এই সেতু ও সংযোগ সড়কের বিপরীতে ঠিকাদারের জামানত জমা রয়েছে। সকল ক্রুটিগুলো ঠিক করার পর ঠিকাদাররেক জামানত দেওয়া হবে। ঠিকাদার সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু করবে বলে জানান তিনি।
বিএম/জ/রা



