― Advertisement ―

সিরিয়ার আসাদ শাসনের পতনের ইঙ্গিত

ডেস্ক রিপোর্টঃ সিরিয়ার একদা অবিনশ্বর বলে দাবি করা আসাদ শাসনের স্থায়িত্বের ধারণা এখন চরম ভঙ্গুর। হাফেজ আল-আসাদের “আমাদের চিরন্তন নেতা” স্লোগান আজ ইতিহাসের পাতায় ম্লান। তার মৃত্যুর পর ২০০০ সালে তার ছেলে বাশার আল-আসাদ শাসনভার গ্রহণ করেন। আরব বসন্তের সময় ২০১১ সালে যখন একের পর এক স্বৈরশাসকের পতন ঘটছিল, তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন সিরিয়ার আসাদ শাসনেরও হয়তো শেষ ঘনিয়ে এসেছে।

কিন্তু ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং রাশিয়ার সমর্থন এই শাসনকে টিকিয়ে রেখেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। যদিও দেশের বিভিন্ন অংশ কুর্দি মিলিশিয়া, তুরস্ক সমর্থিত সুন্নি গোষ্ঠী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবুও আসাদ শাসন তার অবস্থান ধরে রেখেছিল।

তবে এই সপ্তাহে সেই ধারণা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। ইদলিব প্রদেশ থেকে বিদ্রোহীরা, যারা একসময় আল-কায়েদার সহযোগী ছিল এবং বর্তমানে হায়াত তাহরির আল-শাম নামে পরিচিত, আকস্মিক আক্রমণে আলেপ্পো পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। মাত্র ৭২ ঘণ্টায় সরকারের বাহিনী উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে, বিদ্রোহীরা হামা শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ার মিত্রদের দুর্বল অবস্থানই এই পতনের প্রধান কারণ। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হিজবুল্লাহ তাদের বেশিরভাগ যোদ্ধাকে ফিরিয়ে নিয়েছে, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত এবং ইরানও সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছে।

আসাদ পরিবার ১৯৭১ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকলেও তাদের শাসনব্যবস্থা দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং গৃহযুদ্ধের কারণে ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়েছে। হয়তো এই শাসনব্যবস্থারও একদিন অবসান হবে। সূত্রঃ সিএনএন