― Advertisement ―

এবার ঢাকায় রোবট দেবে ফিজিওথেরাপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক রোবটের মাধ্যমে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ুজনিত রোগীর অবস্থা অনুযায়ী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদান করা সম্ভব। রোবটিক...

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাপটে সংকটে ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম: উন্নয়ন সহযোগীদের বিশেষ তহবিলের আহ্বান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত প্রসার এবং আয় ও পাঠকসংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী মূলধারার গণমাধ্যম। তথ্য জালিয়াতি, ভুয়া খবর ও অপ্রমাণিত খবরের মাধ্যমে সৃষ্ট সামাজিক অস্থিরতা রুখতে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখতে এখন বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ইউএনডিপি এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

প্রযুক্তিগত রূপান্তরের এই যুগে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সার্বিক পরিস্থিতি সংকটাপন্ন। ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ জানান, নতুন প্রজন্মের চাহিদা পূরণে ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যমের সীমাবদ্ধতার সুযোগে বিশ্বজুড়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি অনেক উন্নত দেশেও প্রিন্ট সংস্করণের প্রকাশনা বন্ধ করতে হয়েছে। বাংলাদেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) তালিকায় প্রায় ৫০টি ইংরেজি দৈনিক থাকলেও তাদের সম্মিলিত বিক্রি লাখের কম। অন্যদিকে দেশে ১,৪৩৬টি মুদ্রিত দৈনিক (ঢাকায় ৫৯৩টি এবং মফস্বলে ৮৪৩টি) প্রকাশিত হলেও শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিকগুলোর প্রকৃত বিক্রয়সংখ্যা ৩ থেকে ৪ লাখের বেশি নয়।

বেসরকারি টেলিভিশনের পরিস্থিতিও ভিন্ন নয়। বর্তমানে দেশে অনুমোদিত ৫৫টি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের মধ্যে ৩৯টি সম্প্রচারে রয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) বিপুল পরিমাণ পরিচালন লোকসান গুণছে। উদাহরণস্বরূপ, সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বাপন সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৪৪.২১ কোটি টাকা, যার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৯৮.৫৭ কোটি টাকা। পরবর্তী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় কমে দাঁড়ায় ২৭.৬৪ কোটি টাকায়, আর ব্যয় পৌঁছায় ৩০৭.৯২ কোটি টাকায়। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে বিপুল সরকারি ভর্তুকি দিয়ে প্রতিষ্ঠান দুটি টিকিয়ে রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার গণমাধ্যমগুলোতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও সেন্সরশিপের ইতিহাস রয়েছে। বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে সরাসরি রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রশাসনিক ভয়ে সংবাদপত্রে আত্ম-সেন্সরশিপের (Self-censorship) কালচার তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার সাংবাদিকদের বাকস্বাধীনতা কাড়তে বড় ভূমিকা রেখেছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ও অসত্য তথ্য সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করছে। ভুল তথ্য মোকাবিলায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাফ্যাক্ট’ উদ্যোগ এ পর্যন্ত ৭৮৩টি ফ্যাক্ট-চেক প্রকাশ করেছে এবং ৩০০টির বেশি ভুয়া ফেসবুক ও ১৯৬টি এক্স অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে।

এই সার্বিক প্রেক্ষাপটে জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ও এনজিও নেতারা মনে করছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক বা অন্য আন্তর্জাতিক অংশীদাররা সরকারের সাথে আলোচনা করে একটি ‘বিশেষ উন্নয়ন তহবিল’ (Special Development Fund) গঠন করলে দেশীয় সংবাদ খাত টিকে থাকার নতুন অক্সিজেন পাবে।