― Advertisement ―

রাউন্ড অব ৩২-এ সামনে ফরাসি প্রাচীর; হিয়েনকে হারিয়ে কঠিন পরীক্ষায় গতিশীল সুইডেন

বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে সুইডেন সবসময়ই একটি ঐতিহ্যবাহী নাম। ফিফা বিশ্বকাপের মোট ২৩টি ঐতিহাসিক আসরের মধ্যে ১৩টিতেই অংশ নিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের এই পরাশক্তি। ১৯৫৮ সালের...

সদ্য প্রাক্তন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর অশ্রু ভেজা বক্তব্যঃ দূর থেকে দেখা

পত্রিকায় দেখালাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিএনপি সংসদীয় দলের ১৯/০৮/২০২৬ তারিখের সভায় কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগ আপ্লুত হয়েছিলেন জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী এই মহান নেতাকে আমরা এবারই প্রথম কাঁদতে দেখি নি। হাসিনার ফ্যাসিস্ট আমলেও নিজ দলের কর্মীদের মানবেতর জীবন, হামলা মামলা, গুম-হত্যা, জেল-জুলুম ইত্যাদির মর্মান্তিক বর্ননা দিতে গিয়ে বারবার তিনি মিডিয়ার সামনে আবেগ আপ্লুত হয়েছেন। ভারতীয় আধিপত্য, নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অমানবিক কারাবাস ও বিদেশে চিকিৎসা নিতে চক্রান্তের নিষ্ঠুরতা মিশ্রিত অশালীন নিষেধাজ্ঞা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের পরবাসী নির্বাসীত জীবন ও নেতত্ব দান, গনতন্ত্রহীনতা, সুষ্ঠ নির্বাচনের সুদুর পরাহত সম্ভাবনা ইত্যাদি উনার জীবনকে ঘরে, রাজপথে, অফিসে ও কারাগারে এক অসহনীয় অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করে বিচিত্র স্বাদ দিয়েছে। তারপরেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সজ্জন ও সদালাপী গ্রহনযোগ্য রাজনীতিবিদ হিসাবে তিনি দল ও জনগনের কাছে শ্রদ্ধেয় আছেন

একটু পিছন থেকে বিএনপি মহাসচিবগনের স্মৃতির ঢালী খুলতে গিয়ে দেখিঃ

১। অধ্যাপক এ.কিউ.এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীঃ (১/৯/১৯৭৮ – ১৭/১/১৯৮৬)

শহীদ জিয়ার অত্যন্ত প্রিয় মানুষ হিসাবে দলের মহাসচিব হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন কিন্তু ৩০ মে ১৯৮১ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে উপস্থিত থেকেও জিয়ার শাহাদত বরণ ও পরবর্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে দলের প্রতি এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করে বিতর্কিত হয়েছেন। এক সময় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন, বিএনপি উনাকে আর স্মরন করার প্রয়োজন মনে করে না

২। কে এম উবায়দুর রহমানঃ (১৭/১/৮৬ – ১৭/৩/৮৭)

সেনা প্রধান এরশাদ সামরিক শাসন জারি (মার্চ ১৯৮২) করে দায়িত্ব নিয়ে প্রথমেই বিএনপি কে আঘাত করে। হুদা-মতিন এর নেতৃত্বে একটা অংশ ভাগিয়ে নিয়ে নিজেই দল গঠন করে। নতুন বিএনপি চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত ধীরতা ও সতর্কতার সাথে দলের কার্যনির্বাহী ও স্থায়ী কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে মহাসচিব উবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে দলের একটা অংশ এরশাদের সাথে যাওয়ার গুজবকে ঠান্ডা করে দেন। যদিও উবায়দুর রহমান বেশ কয়েক বছর পরে আবার দলে ফিরে আসতে সক্ষম হন। তারই মেয়ে এখন জনাব তারেক রহমান সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সামা উবায়েদ ইসলাম

৩। কর্নেল (অবঃ) আসম মোস্তাফিজুর রহমানঃ (১৭/৩/৮৭ – ২২/৮/১৯৮৮)

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সহকর্মী, সহযাত্রী হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন

৪। ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারঃ (২২/৮/১৯৮৮ – জুন ১৯৯৬)

ক্ষমতাসীন দলকে প্রধান বিরোধী দলে রূপান্তর করে অনেককেই হতবাক করেছিলেন। বড় ধরনের সাফল্য হলো এরশাদের পতন ও গন অভ্যুথানে নেতৃত্ব দান। ম্যাডাম ১৯৯৬ সালের দ্বিতীয় নির্বাচনের পর মন্তব্য করেছিলেন “আমার ক্যাবিনেটের সবাই যদি জিতে আসতে পারতো তবে আমরাই সরকার গঠন করতে পারতাম”

৫। আব্দুল মান্নান ভূঁইয়াঃ (জুন ১৯৯৬ – ৩/৯/২০০৭)

বিরোধী দলকে পুনর্গঠন, সরকার বিরোধী আন্দোলন, মন্ত্রী परिषধের দায়িত্ব পালন সহ ২০০১ সালে বিরোধী দল থেকে বিএনপি কে সরকারে আনায়নে গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ১/১১ এর সময় রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সংস্কার ইস্যুতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে জড়িয়ে দল থেকে বহিঃস্কৃত হন। দলের এক সময়ের গুরুত্বপূর্ন নেতা, সংগঠক ও রেসকিউ মিনিস্টার হিসাবে বিবেচিত হলেও দলের দুঃসময়ে সাথে না থাকায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আর দলে ফেরা সম্ভব হয় নি

৬। খন্দকার দেলোয়ার হোসেনঃ (৩/৯/২০০৭ – ১৬/৩/২০১১)

মইন ফখরুদ্দীন এর নেতৃত্বে ১/১১ পরবর্তী কঠিন সময়ে দলের নেতৃত্বে আসেন তিনি। অসুস্থতা সত্ত্বেও দুঃসময়ে কঠিন দ্বায়িত্ব পালন করে দল ও জনগনের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে উঠেন জনাব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন

৭। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরঃ (১৬/৩/২০১১ – ২৯/৩/২০১৬) + (৩০/৩/২০১৬ – ১৯/৮/২০২৬)

প্রথমে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত হয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরবর্তীতে কাউন্সিলের মাধ্যমে মহাসচিব নির্বাচিত হন। হাসিনা বিরোধী, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ আন্দোলনে, দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের কঠিন পরীক্ষায় বারবার উত্তীর্ণ হয়ে জেল জুলুম মামলা হামলা, কারাবাস এর নির্মম বাস্তবতার সাক্ষী হয়ে ওঠেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সুদূর উত্তর বঙ্গের (ঠাকুরগাঁও ২) এমপি হিসেবে এত বড় দলের মহাসচিব এর দায়িত্ব পালনে বাস্তব সমস্যা ও কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। প্রায় নিশ্চিত পতনের মুখোমুখি সরকার পতনের ঢাকা অবরোধ আন্দোলনে আশানুরূপ ফল লাভে ব্যর্থতা, শাপলা চত্বরে হত্যা কাণ্ড, শাপলা ট্রাক অবরোধ, হাসিনার প্রতিশোধের রাজনৈতিক জুডিশিয়াল কিলিং, শত শত নেতার গুম হত্যা, লাখ লাখ নেতা কর্মীর কারাবাস, ঘরছাড়া জীবন, ব্যবসা-পাতি হারানো, ধান ক্ষেতে রাত্রি যাপন, গ্রাম ছেড়ে শহরে রিকশা চালিয়ে জীবন ধারণের মত (আরও যা উল্লেখ করা হয়নি) নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছেন তিনি ও তার দলের লাখ লাখ মানুষ। বঞ্চিত হয়েছেন ভোটাধিকার ও নির্বাচনের মৌলিক অধিকার থেকে। মিথ্যা মামলায় বারবার গিয়েছেন জেলে। প্রতারিত হয়েছেন ২০১৮ এর রাতের ভোটের নির্বাচনে। তবুও দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। সর্বশেষ ৫ আগস্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অত্যন্ত কৌশলী ভূমিকা রেখে হাসিনা পতনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন

ডাঃ মোঃ বজলুল গনি ভূঁইয়া

উপদেষ্টা, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটি।

মতামত লেখকের নিজস্ব