ডেস্ক রিপোর্ট
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, আগামী সংসদ নির্বাচন, দেশে ফেরা সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই প্রথম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কথা বলেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ভারতের নয়াদিল্লিতে থাকা শেখ হাসিনা আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ দেশের ভবিষ্যৎ ভূমিকা পালনে ফিরে আসবে, সেটা সরকারে হোক আর বিরোধী দলে হোক এবং তার পরিবারের এর নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
শেখ হাসিনা বলেন”এটা আসলে আমার বা আমার পরিবারের ব্যাপার না। বাংলাদেশের জন্য আমরা সবাই যা চাই, সেখানে সাংবিধানিক শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরতে হবে। কোন ব্যক্তি বা পরিবার আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না”।
অপর এক প্রশ্নে জবাবে শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হলে দলের লাখ লাখ সমর্থক এই নির্বাচন বয়কট করবে। রয়টার্সের ইমেইলে পাঠানো প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেছেন।
শেখ হাসিনা জানান, তার দলকে বাদ দিয়ে হওয়া নির্বাচনের মাধ্যমে যেই সরকারই হোক তাদের সময়ে তিনি দেশে ফিরবেন না এবং তিনি ভারতেই অবস্থান করবেন।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা শুধু অন্যায্যই নয়, বরং আত্মঘাতী। পরবর্তী সরকারের অবশ্যই নির্বাচনী বৈধতা থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের লাখ লাখ সমর্থক, এমন পরিস্থিতি থাকলে, ভোটে অংশ নিবে না। একটি কার্যকর রাজনৈতিক সিস্টেম চাইলে আপনি লাখ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারেন না।’
২৪ এর জুলাই গণ আন্দোলন বিষয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ১ হাজার ৪০০ জনের মতো মানুষ সেসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। একে মুক্তিযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এ বিষয়ে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার বা অন্য কথিত অপরাধের সাথে তার ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা ছিলো না।
শেখ হাসিন বলেন, ‘এই কার্যক্রমগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক। এগুলো ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে আনা হয়েছে, যেখানে দোষী সাব্যস্ত করে রায় আগেই ঠিক করা। আমাকে আগে নোটিশ দেওয়া বা আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ দেওয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে’।



