― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

শান্তির দূত থেকে রাষ্ট্রনায়ক

শান্তির দূত থেকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব—এক নতুন ইতিহাসের সূচনা

বরিশাল মেইলঃ বিশ্ব যখন সংঘাত, দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সংকটে টালমাটাল, তখন একজন মহানায়ক এগিয়ে এসেছেন, যিনি শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র বিশ্বে মানবকল্যাণের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তিনি শান্তিতে নোবেলজয়ী, ক্ষুদ্রঋণের পথপ্রদর্শক, সামাজিক ব্যবসার জনক, বিশ্বনন্দিত অর্থনীতিবিদ—ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ এই ক্ষণজন্মা পুরুষ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যাকে ঘিরে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে দেশবাসীর মনে।

গত বছরের ৫ আগস্ট এক ঐতিহাসিক গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। জনগণের দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ৮ আগস্ট শপথ নেওয়ার পর তিনি এক ভঙ্গুর, দিশেহারা দেশকে পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থার কারণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে নতুন পরিচয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববরেণ্য এক ব্যক্তিত্ব, যার হাত ধরে বাংলাদেশের নবজাগরণ

ড. মুহাম্মদ ইউনূস শুধু একজন অর্থনীতিবিদ নন, তিনি একাধারে সমাজসংস্কারক, মানবতার দূত এবং বৈশ্বিক শান্তির প্রতীক। তাঁর ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্ব—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য কার্বন নিঃসরণ—আজ বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। পৃথিবীর নানা সংকট মোকাবিলায় তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা বাস্তবায়িত হচ্ছে বিভিন্ন দেশে।

তাঁর নেতৃত্বে মাত্র ছয় মাসেই বাংলাদেশ বিশ্বে এক নতুন মর্যাদা পেয়েছে। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট সম্প্রতি বাংলাদেশকে ‘কান্ট্রি অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছেন, তা আজ বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।

দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে এক অক্লান্ত যোদ্ধা

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল শিক্ষকতা দিয়ে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক থাকাকালীন তিনি উপলব্ধি করেন যে শুধু তাত্ত্বিক অর্থনীতি দিয়ে সমাজ বদলানো সম্ভব নয়। এরপর তিনি মাঠে নামেন। ১৯৭৬ সালে জোবরা গ্রামের দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষুদ্রঋণের ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন। তাঁর হাতে গড়া গ্রামীণ ব্যাংক দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। একসময় যারা নিদারুণ দারিদ্র্যের শিকার ছিলেন, তারাই আজ স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা। নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। এজন্য তিনি ১৯৮৪ সালে ‘র‌্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার’ এবং ২০০৬ সালে ‘শান্তিতে নোবেল পুরস্কার’ লাভ করেন।

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় ইউনূসের দর্শন

ড. ইউনূসের ‘সামাজিক ব্যবসা’ মডেল এখন বিশ্বের নানা দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই ধারণার মূল কথা হলো—ব্যবসা হবে লাভজনক, তবে ব্যক্তিগত মুনাফার পরিবর্তে তা পুনরায় সমাজের কল্যাণে বিনিয়োগ করা হবে।

তিনি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশ্বব্যাপী ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ গঠন করে তরুণদের সম্পৃক্ত করেছেন এই আন্দোলনে। সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে গ্রিন এনার্জির প্রসার ঘটানো, প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মুকুটে নতুন পালক

ড. মুহাম্মদ ইউনূস কেবল নোবেলজয়ী নন, তিনি বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত ব্যক্তি। সম্প্রতি তিনি বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার কর্তৃক ‘নেশন বিল্ডার’ খেতাব পেয়েছেন। এটি বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবময় স্বীকৃতি। এছাড়া ‘দ্য মুসলিম ৫০০’ তালিকায় বিশ্বে সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০ মুসলিম ব্যক্তির মধ্যে তাঁর নাম রয়েছে।

শুধু অর্থনীতি বা সমাজসংস্কারে নয়, তিনি ক্রীড়াঙ্গনেও অনন্য অবদান রেখেছেন। ২০২৩ সালে তিনি সৌদি আরবে ‘ওয়ার্ল্ড ফুটবল সামিট’ থেকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ২০২১ সালে টোকিও অলিম্পিকে ‘অলিম্পিক লরেল অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন।

বাংলাদেশের জন্য নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশ এখন এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বৈরাচারী শাসন থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বচ্ছ ও কল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। দেশের প্রতিটি মানুষ আজ নতুন স্বপ্ন দেখছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাত ধরে বাংলাদেশ এক নতুন পরিচয়ে বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রকাশ করছে। তিনি শুধুমাত্র একজন নোবেলজয়ী নন, তিনি জাতির আলোকবর্তিকা। তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে, যেখানে সমতা, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধই হবে অগ্রাধিকার।

বিশ্ব আজ তাকিয়ে আছে বাংলাদেশের দিকে, আর বাংলাদেশের মানুষ তাকিয়ে আছে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের দিকে। এক নতুন ইতিহাস রচনা হচ্ছে, যার নায়ক—ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বিএম/সজীব