যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে ভয়াবহ দাবানলে নয়দিন ধরে জ্বলছে বিস্তীর্ণ এলাকা। স্থানীয় সময় ৭ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে কয়েক হাজার স্থাপনা।
দাবানলের তীব্রতা বাড়ানোর জন্য বড় ভূমিকা পালন করছে স্থানীয়ভাবে ‘সান্তা অ্যানা’ নামে পরিচিত ঝড়ো বাতাস। বুধবার থেকে এই বাতাস শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, এই ঝড়ো বাতাসে ‘আগুনের টর্নেডো’ সৃষ্টি হতে পারে, যা বিপর্যয়ের মাত্রা আরও বাড়াবে।
প্যাসিফিক প্যালিসেডস এবং আলটাডেনা—এই দুটি এলাকায় আগুন সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্যালিসেডসের ৫,৫০০ বিলাসবহুল বাড়ি এবং আলটাডেনার ৫,০০০-এর বেশি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। বর্তমানে এই দুই এলাকায় ৪০ হাজার একর জমি জ্বলছে।
জাতীয় আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বাতাসের তীব্রতা এবং শুষ্কতার কারণে নতুন দাবানল সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। গত আট মাস ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস দমকল বাহিনীর প্রধান ক্রিস্টিন ক্রাউলি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দমকলকর্মীরা সম্মিলিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন, কিন্তু পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের লাখো বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। স্কুলসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো ধ্বংস হওয়ায় শিশুদের অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে আরও অনেক সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সবার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া আরও শুষ্ক ও তীব্র হলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
বিএম/সজীব



