ডেস্ক রিপোর্টঃ যুক্তরাষ্ট্রে বার্ড ফ্লুতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। লুইজিয়ানার এক ব্যক্তি, যিনি গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সোমবার রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে, এবং সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানায় যে এটি যুক্তরাষ্ট্রে বার্ড ফ্লুতে প্রথম মৃত্যু।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তি ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ছিলেন এবং আগে থেকেই শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি বাড়ির পেছনের একটি পোলট্রি খামারের অসুস্থ ও মৃত পাখির সংস্পর্শে এসেছিলেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বার্ড ফ্লু ভাইরাস তার শরীরে পরিবর্তিত হয়ে রোগটিকে আরো গুরুতর করে তুলেছিল।
তবে মৃত ব্যক্তির পরিচয় এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মার্চ মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৬৬টি বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আগের সব সংক্রমণ ছিল মৃদু এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্তরা পোলট্রি বা গবাদি পশুর সংস্পর্শে আসা কৃষিকর্মী ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বার্ড ফ্লুতে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। ২০০৩ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫০ জনেরও বেশি, যাদের মধ্যে ৪৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে, জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ব্রাউন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর প্যান্ডেমিক সেন্টারের পরিচালক জেনিফার নুজ্জো বলেন, “বার্ড ফ্লু সবসময় একটি মারাত্মক ভাইরাস হিসেবে পরিচিত। এটি আমাদের জন্য একটি দুঃখজনক অনুস্মারক যে এই ভাইরাস কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।”
নুজ্জো আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি কানাডার এক কিশোর বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমান ভাইরাসের প্রকৃতি এবং এটি কেন কিছু মানুষের জন্য বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে তা নির্ধারণে গবেষণা চলছে।
সিডিসি এক বিবৃতিতে এই মৃত্যুকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করলেও জানায় যে, বন্য পাখি, পোলট্রি বা গবাদি পশুর মাধ্যমে বর্তমানে কোনো গুরুতর ভাইরোলজিক পরিবর্তন ঘটেনি যা মানুষের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
লুইজিয়ানার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের রাজ্যে এই মুহূর্তে অন্য কোনো সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে এখনো এই ভাইরাসের মানব থেকে মানব সংক্রমণের প্রমাণ মেলেনি।
বিশ্বব্যাপী এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু বন্য পাখি, পোলট্রি এবং গবাদি পশুর মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবেশে এর বাড়তি উপস্থিতি মানুষের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন, অসুস্থ বা মৃত পাখির সংস্পর্শে আসলে মাস্ক, চশমা এবং গ্লাভস ব্যবহার করার মতো সতর্কতা অবলম্বন করতে। সূত্র: সিডিসি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিএম/সজীব



