― Advertisement ―

তরুণদের মাঝে তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা; ভারতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্লক!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের বেকার তরুণ ও জেনারেশন-জেড (Gen-Z) প্রজন্মের মাঝে অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করা ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party) এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ বন্ধ (ব্লক) করে দিয়েছে ভারত সরকার। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে আজ শনিবার (২৩ মে, ২০২৬) এক বিবৃতিতে বহুল আলোচিত এই ডিজিটাল ক্র্যাকডাউনের তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MeitY) দেশটির গোয়েন্দা ব্যুরোর (IB) দেওয়া বিশেষ রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯(এ) ধারা প্রয়োগ করে এই বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঝড় তোলা এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটির মূল প্রচারণামূলক ওয়েবসাইটটি (cockroachjantaparty.org) ভারত থেকে এখন আর দেখা যাচ্ছে না।

দলটির তরুণ প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে পাবলিক রিলেশনস বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। সেখান থেকেই তিনি সম্পূর্ণ ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতীকী উপায়ে ভারতের বেকারত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়তে চলতি মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গঠন করেন। মেম কালচার এবং ব্যঙ্গাত্মক নামকরণের কারণে প্রতিষ্ঠার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এই দলটির ইনস্টাগ্রাম পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে ছাড়িয়ে ২ কোটি ২০ লাখ অতিক্রম করে। তবে অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছেন, কেবল ওয়েবসাইট বন্ধ করাই নয়, বরং অত্যন্ত পরিকল্পিত সাইবার হামলার মাধ্যমে তাঁদের মূল দলীয় ইনস্টাগ্রাম পেজ এবং তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টটি আজ সকালে হ্যাক করে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

এই অভিনব ও অদ্ভুত রাজনৈতিক নামকরণের নেপথ্যে রয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য। চলতি মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে হাইকোর্টের এক মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি দেশের একাংশের বেকার তরুণ ও কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টকে সমাজের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সাথে তুলনা করেন। বিচার বিভাগীয় সর্বোচ্চ আসন থেকে আসা এমন অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ তরুণদের নিয়ে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ গঠন করা হয়, যার মূল স্লোগান নির্ধারণ করা হয়— “অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর”। তীব্র বিতর্কের মুখে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত পরবর্তীতে স্পষ্টীকরণ দিয়ে দাবি করেন, তিনি সামগ্রিকভাবে দেশের সৎ তরুণদের অবমাননা করেননি; বরং যাঁরা ভুয়া ও জাল ডিগ্রি নিয়ে বিভিন্ন পেশায় ঢুকে সমাজকে কলুষিত করছেন, কেবল তাঁদের উদ্দেশ্যেই এই উপমা ব্যবহার করেছিলেন।

ব্যঙ্গাত্মক এই দলটি বর্তমানে ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET-UG 2026) এর প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা খাতের নজিরবিহীন অব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ দাবি করে দেশজুড়ে ডিজিটাল ও মাঠপর্যায়ে গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু করেছিল। ওয়েবসাইটটি বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ তরুণ এতে সদস্য হিসেবে নিবন্ধিত হন এবং ৬ লাখেরও বেশি মানুষ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে পিটিশনে স্বাক্ষর করেন। অভিজিৎ দীপকে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক্স-এ লিখেছেন, “প্রশ্নফাঁসের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, নতুন ভারতে জবাবদিহিতা চাওয়ার অপরাধে তেলাপোকা জনতা পার্টির ওপর স্বৈরাচারী উপায়ে ডিজিটাল ক্র্যাকডাউন চালানো হচ্ছে।” আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ডিজিটাল অধিকার সংস্থাগুলো ভারত সরকারের এই পদক্ষেপকে বাকস্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত বলে তীব্র সমালোচনা করেছে।