খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানা এলাকার খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক সংলগ্ন একটি জামে মসজিদের বারান্দা থেকে এক দিনমজুরের নৃশংস ও বর্বরোচিত গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। আজ রোববার (২৪ মে, ২০২৬) ভোর আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থানীয় মুসল্লি ও পথচারীরা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত জয়খালী উত্তরপাড়া বাইতুল মা’মুর জামে মসজিদের বারান্দায় রক্তাক্ত মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করেন। নিহত ওই দিনমজুরের নাম ডালিম গাজী (৪৫)। তিনি খুলনা জেলার উপকূলীয় কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন এবং জীবিকার তাগিদে হরিণটানা এলাকায় দিনমজুরের কাজ করতেন।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের ন্যায় আজ ভোরেও মুসল্লিরা যখন ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাইতুল মা’মুর জামে মসজিদে সমবেত হচ্ছিলেন, তখন বারান্দার মেঝেতে প্রচুর রক্তক্ষরণ ও একটি নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। সংবাদ পেয়ে হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করে। নিহত ডালিম গাজীর শ্বাসনালী ধারালো অস্ত্র দিয়ে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে কাটা ছিল, যা দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ঘাতকরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহের কেবল গলাই কাটা ছিল না, বরং তাঁর মাথার পেছনের অংশে ভারী ও ভোঁতা কোনো বস্তু দিয়ে একাধিকবার আঘাত করার গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথমে মাথায় আঘাত করে তাঁকে অচেতন বা দুর্বল করা হয় এবং পরবর্তীতে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কেটে ফেলা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলের ঠিক পাশ থেকেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ভারী এবং মানুষের রক্তমাখা ইট আলামত হিসেবে জব্দ করেছে। পরবর্তীতে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (CID) একটি বিশেষ ক্রাইম সিন ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে এসে রক্তের নমুনা, আঙুলের ছাপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্লু সংগ্রহ করে।
পুলিশের প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে ডালিম গাজীর মরদেহটি ময়নাতদন্তের (Autopsy) জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রকাশ্য মহাসড়কের পাশে আল্লাহর ঘর মসজিদের পবিত্র বারান্দায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো হরিণটানা ও কৈয়াবাজার এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হরিণটানা থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ বা কারণ এখনো উদঘাটিত হয়নি। নিহত ব্যক্তি কোনো স্থানীয় কোন্দল, আর্থিক লেনদেন নাকি অন্য কোনো পূর্ব শত্রুতার শিকার হয়েছেন—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।”


