পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করতে সপরিবার মোটরসাইকেলে চড়ে কর্মস্থল থেকে গ্রামীণ জনপদে ফেরার পথে এক ভয়াবহ ও নির্মম সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক বেসরকারি ব্যাংক/এনজিও কর্মী ও তাঁর চার বছর বয়সী অবুঝ কন্যাসন্তান। আজ সোমবার (২৫ মে, ২০২৬) সকাল আনুমানিক সাতটার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী পর্যটন মোটেল-সংলগ্ন ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এই মর্মান্তিক ও বুকফাটা দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ওই কর্মীর স্ত্রীও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় ঈদের আনন্দ এক নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয়েছে, যা স্থানীয় মহাসড়ক ব্যবহারকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাঝে গভীর শোক ও কান্নার রোল সৃষ্টি করেছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্র্যাক’ (BRAC)-এর রংপুর মহানগরের মাহিগঞ্জ শাখার মাঠ কর্মকর্তা আনিসুর রহমান (৩৫) এবং তাঁর চার বছরের শিশু কন্যা আয়েশা খাতুন। নিহত আনিসুর রহমানের স্থায়ী নিবাস পাবনার সুজানগর উপজেলার প্রত্যন্ত গোপালপুর গ্রামে। এই একই দুর্ঘটনায় মহাসড়কে ছিটকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন আনিসুরের স্ত্রী পুষ্পা খাতুন (২৫)। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল রক্তাক্ত অবস্থায় পুষ্পা খাতুনকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে। বর্তমানে তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার ভোররাতে ঈদের সরকারি ছুটির সুযোগে রংপুর থেকে নিজস্ব মোটরসাইকেলে স্ত্রী পুষ্পা ও একমাত্র কন্যাসন্তান আয়েশাকে নিয়ে পাবনায় নিজ পৈতৃক ভিটার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন আনিসুর রহমান। সকাল সাতটার দিকে মোটরসাইকেলটি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী পর্যটন মোটেল এলাকা অতিক্রম করার সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা অজ্ঞাতপরিচয় একটি দূরপাল্লার ভারী যানবাহন মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং আনিসুর তাঁর পরিবারসহ মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। মাথায় ও বুকে প্রচণ্ড আঘাত লাগার কারণে ঘটনাস্থলেই আনিসুর রহমান ও শিশু আয়েশার মৃত্যু হয়।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, মহাসড়কে পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়া ঘাতক গাড়ি ও তার চালককে শনাক্ত করতে হাইওয়ে পুলিশের বিশেষ টিম ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ঈদের ছুটিতে অসতর্ক ও বেপরোয়া গাড়ি চালনার কারণেই এই ডাবল ফ্যাটালিটি বা দ্বৈত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত বাবা ও মেয়ের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তরের প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর পাবনার গোপালপুর গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক শোকার্ত ও স্তব্ধ পরিবেশের সৃষ্টি হয়; স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।



