― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

ভূমিকম্পের বড় ঝাঁকুনির শঙ্কায় দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮৬৯ থেকে ১৯৩০– এই ৬১ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলে পাঁচটি বড় ভূমিকম্প হয়, যার সবই রিখটার স্কেলে ৭-এর উপরে। এরপর দীর্ঘ নীরবতা। আর এই নীরবতাকেই শক্তিশালী ভূমিকম্পের পূর্বাবস্থা। ১৯৩০ সালের পর গত ৯৫ বছরে ছোট ছোট কিছু ভূমিকম্প হলেও তাতে তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। যা বড় ভূমিকম্পের আভাস হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিতে শক্তিশালি ঝাঁকুনি (ভূমিকম্প) অনুভূত হয়েছে। মাঝারি মানের এই ভূমিকম্পে দেশে দুই শিশুসহ কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন এবং সহাস্রাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

নিহতের মধ্যে নরসিংদীতে পাঁচজন, ঢাকায় চারজনের এবং একজন নারায়ণগঞ্জের।এ ছাড়া, ভূ-কম্পনে বেশকিছু ভবনে ফাটল ধরেছে এবং অনেকগুলো বহুতল ভবন হেলে পড়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলছে, রিখটার স্কেলে পাঁচ দশমিক পাঁচ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীতে। এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের অন্তত ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল। তবে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ভূমিকম্পটি পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার ছিল।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সকালে (১০টা ৩৮ মিনিট) যখন মানুষ বাসা বাড়িতে ছিল ঠিক তখনই হঠাৎ ভূমিকম্প অনুভব করায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বেশিরভাগ মানুষকেই বাসা, কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে খোলা জায়গায় চলে আসতে দেখা যায়।

এদিকে, ভূমিকম্পের প্রভাবে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। তাতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গতকাল বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রচন্ড বিঘ্ন ঘটেছে। এছাড়া, রাজধানীতে বিকেলে মেট্রোরেল চালুর আগে নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য দুইবার ট্রেন পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনা করা হয়।

গত ৪৮৫ বছরের ভূমিকম্প তালিকাভুক্ত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র দেখিয়েছে, ঢাকা ও আশপাশে ঐতিহাসিকভাবে মাত্র ছয়টি ভূমিকম্প হলেও গত ১২ বছরে সংখ্যাটা দশে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলও বদলে গেছে।

আগে যা সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বেশি ছিল। আর এখন মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, দোহার ও নরসিংদীর দিকে সরে এসেছে।

অনেক বিশেষজ্ঞ এটাকেই বিপজ্জনক লক্ষণ হিসেবে দেখেন। যেন বড় একটি চাপ জমে আছে; বের হওয়ার পথ খুঁজছে। সমস্যা হলো, এ ধরনের সতর্কতা অনেক বছর ধরে শোনা গেলেও বাস্তব উদ্যোগ গতি পায় না।

ঢাকার ছয় লাখ ভবনের দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ম মানে না, এটা অনেকবার রিপোর্টে এসেছে। নতুন ভবনেও একই অবস্থা। বিল্ডিং কোড কার্যকর করার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে এটি প্রায় অকার্যকর। জরুরি প্রস্তুতির বিষয়গুলোও বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। দোহার, মানিকগঞ্জ ও নরসিংদীতে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল শনাক্ত হওয়ায় বড় ধরনের ভূকম্পনের মুখোমুখি হতে পারে এ অঞ্চল।

তাদের মতে, শীতলক্ষ্যা বেসিন বা অববাহিকায় থাকা জলাভূমি ভরাট করে শিল্পাঞ্চল, আবাসন ও অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। এ ধরনের ভূমি ধসের উচ্চঝুঁকিতে থাকে। ভূমিকম্প হলে শুধু ঢাকার ভেতরের মেগা প্রকল্পই নয়, শীতলক্ষ্যার তীরে থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার কারখানা, বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও ঘনবসতিপূর্ণ আবাসনগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বারবার হওয়া ভূমিকম্পে ভূতত্ত্ববিদরা বেশি চিন্তিত। তাদের মতে, রাজধানীর পার্শ্ববর্তী বেল্টগুলো যে সক্রিয় হচ্ছে এটা তারই প্রমাণ। বড় ভূমিকম্প আসার আগে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, এটি তারই আগাম বার্তা বহন করে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, সাধারণত একশ থেকে দেড়শ বছর পরপর একটি অঞ্চলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বাংলাদেশ ও এর আশপাশের কাছাকাছি এলাকায় গত দেড়শ বছরে একটি বড় ও প্রায় পাঁচটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। তাই কাছাকাছি সময়ে আরেকটি বড় ভূমিকম্প হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ফায়ার সার্ভিসও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাদের ভবনও ভেঙে পড়বে। রাস্তায় মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে পড়ে থাকবে। গাড়ি চলার সুযোগ থাকবে না। তাই সময় থাকতে রাষ্ট্র এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।