আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে অপহরনের ৮দিন পর গাজীপুরের টুঙ্গি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় শিশুটির প্রাইভেট শিক্ষিকা ও শিক্ষিকার মাকে আটক করা হয়েছে
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের আবুল কাসেম’র মেয়ে বাগধা দাসপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী হালিমা আক্তার একই গ্রামের ফরহাদ সরদারের ছেলে বাগধা নূরানী ও হাফেজীয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী তাজিম সরদার (৭)কে প্রাইভেট পড়াতো।
একারনে তাজিমের পরিবারের সাথে হালিমার সখ্যাতা গড়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ফেব্রুয়ারী সকালে হালিমা তাজিমের বাড়িতে গিয়ে তাজিমকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যায়।
এরপর থেকে হালিমা ও তাজিমের কোন সন্ধান না পেয়ে তাজিমের পরিবার একাধিকবার হালিমার পরিবারের কাছে ধর্না দেয়।
এসময় হালিমার পরিবার তালবাহনা করে সময় ক্ষেপন করে একপর্যায় তারা বসত ঘরে তালা দিয়ে নিখোঁজ হয়।
তাজিমের পরিবার ইউপি সদস্যসহ স্থানীয়দের বিষয়টি জানান।
পরে হালিমার পরিবার থেকে হালিমা আক্তার নিখোঁজের বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানায় ২৫ফেব্রুয়ারী রাতে একটি সাধারন ডায়েরী করেন, যার নং-১১৫৪। অজ্ঞাত কারনে ওই সাধারন ডায়েরীতে হালিমার সাথে তাজিম নিখোঁজ হলেও তার কথা উল্লেখ্য করা হয়নি।
এরপর থেকে হালিমা তার নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে রাখে।
পুলিশ ওই সাধারন ডায়েরীর সূত্র ধরে হালিমা ও তাজিমের সন্ধানে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হালিমার সাথে গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার জলিরপাড় গ্রামের বিশ্বনাথ বাড়ৈর ছেলে সজীব বাড়ৈর সাথে হালিমার মোবাইলে কথা হয়েছে এমন প্রমান পায় পুলিশ।
এরপরে সজীবকে পুলিশ আটক করে হালিমার অবস্থানের কথা জানতে পারে। তাকে নিয়ে আগৈলঝাড়া থানার এসআই সমীর রায় রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে গাজীপুর জেলার টুঙ্গী বাজার এলাকা থেকে অপহৃতা শিশু শিক্ষার্থী তাজিমকে উদ্ধারসহ অপহরনকারী প্রাইভেট শিক্ষিকা হালিমা আক্তারকে আটক করে।
এঘটনায় পুলিশ হালিমার মা রাফিজা বেগমকেও আটক করে।
অপহৃতা শিশু শিক্ষার্থী তাজিমের মা রাশিদা বেগম বাদী হয়ে সোমবার রাতে আগৈলঝাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
তাজিমের পিতা ফরহাদ সরদার বলেন, ছেলের প্রাইভেট শিক্ষিকা পাশের বাড়ির হালিমা বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যায় তাজিমকে। পুলিশ আমার ছেলেকে ৮দিন পরে উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফেরত দিয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, যেহেতু দু-জনই শিশু হওয়ায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া সম্ভব নয়।
তাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা ও থানার শিশু ডেস্কের দায়িত্বে থাকা এসআই তুলসি শাহ এবিষয়ে সিন্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান ওসি।
বিএম/জ/রা



