― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

‘আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত খুন’: স্বজনদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর বরগুনায় হত্যা মামলা রেকর্ড

বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দুটি পৃথক কক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মা ও তাঁর দুই শিশুকন্যার রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধারের সাত দিন পর বরগুনা সদর থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গত মঙ্গলবার (৯ জুন, ২০২৬) মধ্যরাতে এই মামলাটি দায়ের করেন। আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম মামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৩ জুন (বুধবার) বিকেলে ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছিল, যা পুরো বরগুনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইতি রানী (৩৪) জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডাকবাংলোর দুটি আলাদা কক্ষ থেকে ইতি রানী এবং তাঁর দুই মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১২) ও অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক আলামত পর্যালোচনা করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল যে, ইতি রানী তাঁর দুই মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। সেই প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রথমে একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করে।

তবে পুলিশের এই প্রাথমিক তত্ত্বকে শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে ইতি রানীর পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সরব হন। ঘটনার পরদিন ৪ জুন বিকেলে বরগুনা পৌরশহরে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এমনকি বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময়ও স্বজনরা মরদেহ রাস্তায় রেখে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার থানায় হত্যা মামলা দায়েরের চেষ্টা করা হলেও আইনি ও পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে তা বিলম্বিত হয়।

নিহত ইতি রানীর স্বামী ও মামলার বাদী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পর থেকেই তিনি মামলা করার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু প্রথম দিকে থানা-পুলিশ তাঁর এজাহার সরাসরি না নিয়ে অন্য কাউকে বাদী করার পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হলেও সেখানেও তাৎক্ষণিক মামলা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়। অবশেষে ঘটনার এক সপ্তাহ পর পুলিশ তাঁর এজাহারটি নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করল। বরগুনা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, মামলা দায়েরের পর ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।