নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল নগরীর বাজারগুলোতে অন্যান্য পণ্য না কিনলে মিলছে না সয়াবিন তেল।
ফলে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে সয়াবিন তেলের জন্য অন্য পণ্য কিনছেন ভোক্তারা।
অপরদিকে রোজার শুরুতেই বেড়ে গেছে সব জিনিসপত্রের দাম।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবুর আলী ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা। গাজর চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ টাকা। শসা ৫০ টাকায় কিনছেন ক্রেতারা।
এছাড়া বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ।ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে দুইশত টাকা কেজি, সোনালী বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩ শত টাকা, লেয়ার বিক্রি যাচ্ছে ৩৩০ টাকা।
গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০/ ৮০০ টাকা করে। অপর দিকে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে আলু ও পেঁয়াজের দাম।
হাট-বাজার ঘুরে আরো দেখা গেছে, কোনো দোকানে চাইলেও মিলছে না সয়াবিন তেল। তেল চাইলে সঙ্গে অন্যান্য পণ্য কেনার কথা বলছেন বিক্রেতারা।
ফলে না চাইলেও তেলের সঙ্গে অন্য পণ্য ধরিয়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। যা এক রকম বাধ্য হয়ে নিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সয়াবিন তেল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে এমনটা করছেন।
দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর থেকেই সয়াবিন তেলের বাজার অস্থিরতা বিরাজ করছে।
বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার এলাকার আল-আমিন স্টোরের প্রোপাইটর আলামিন বলেন, তেল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের যেসব পণ্য বাজারে চলে না, সেগুলো চালাতে আমাদের বাধ্য করছে।
তেল চাইলেই সঙ্গে আটা, ময়দা, সুজিসহ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অন্যান্য পণ্য। তীর, পুষ্টি, রূপচাঁদা, ফ্রেশসহ প্রায় সব তেল কোম্পানি এ কাজ করছে।
ফলে সে অনুযায়ী আমরাও ক্রেতাদের তেলের সঙ্গে অন্যান্য পণ্য নিতে বলছি। যারা তেলের সঙ্গে অন্যান্য পণ্য নিচ্ছে শুধু তাদেরকেই তেল দেওয়া হচ্ছে।
বটতলা বাজার এলাকার মুদী ব্যবসায়ী মায়ের দোয়া স্টোরের মালিক সুজন হাওলাদার বলেন, তেল কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের সঙ্গে প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল নিতে বাধ্য করছে।
কিন্তু প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল ক্রেতারা নিতে চায় না, কারণ বাজারে খোলা পোলাওয়ের চালের মান অনেক ভালো, দামও কম।
যেখানে খোলা পোলাওয়ের চাল ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যায়, সেখানে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় কেন ক্রেতারা প্যাকেট চাল কিনবে।
পোলাওয়ের চাল ছাড়াও কোম্পানিগুলো তাদের অচল প্যাকেটজাত পণ্যগুলো তেলের সঙ্গে জোর করে ধরিয়ে দিচ্ছে।
যেসব পণ্য ক্রেতারা নিতে চায় না, সেগুলো জোর করে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাঝখান দিয়ে এসব অচল পণ্য নিয়ে আমাদের বিপদে পড়তে হয়। ফলে অনেক ব্যবসায়ী দোকানে সয়াবিন তেল ওঠানোও বন্ধ করে দিয়েছেন।
বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রসঙ্গে একই অভিযোগ করেন নগরীর বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, ‘দোকানে মালামালের অর্ডার নিতে আসা বিক্রয় প্রতিনিধিদের কাছে তেল চাইলেই সঙ্গে আর কী দেবে জিজ্ঞাসা করে।
তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে অচল পণ্যও অর্ডার দিতে হয়। নয়তো চাহিদা অনুযায়ী মেলে না সয়াবিন তেল।’
নগরীর পোট রোড় এলাকার অধিবাসী মোঃ হান্নান ও গৃহবধু তাসলিমা আক্তার নামে এক ক্রেতা জানান, প্রায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে দোকানিরা তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে তেলের সংকট ও দাম বেড়েছে।
এছাড়া তেলের সঙ্গে চাল-ডাল-ময়দাসহ অন্যান্য অবিক্রীত পণ্য নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্যান্য পণ্য না কিনলে তেল দিচ্ছে না।
দুলাল সিকদার নামে আরেক ক্রেতা জানান, রমজান উপলক্ষে কৌশলে তেলের সংকট তৈরি করে আরও দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে ব্যবসায়ীরা।
বোতলের গায়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দিয়েও অনেক জায়গায় তেল মিলছে না। সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় আমরা খুব কষ্টে আছি।
অচিরেই এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
বরিশাল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধীকারী বলেন, আমাদের নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।
তাছাড়া ক্রেতারা যদি অভিযোগ করে তাহলে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএম/জ/রা



