সিরাজগঞ্জ জেলাজুড়ে ছোঁয়াচে রোগ হামের (Measles) প্রকোপ এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, যা স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে ২০ জনেরও বেশি রোগী তীব্র হামের লক্ষণ নিয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শরণাপন্ন হচ্ছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৪ জন আক্রান্ত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর ফলে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবা নেওয়া মোট রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬১ জনে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অফিশিয়াল পরিসংখ্যানবিদ মো. হুমায়ুন কবির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে এই উদ্বেগজনক মহামারি পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার (২০ জুন, ২০২৬) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং সেল থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ দৈনিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শুক্রবার (১৯ জুন) শেষ ২৪ ঘণ্টায় যে ১৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের মধ্যে ১২ জনকে সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এবং ২ জনকে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, মোট আক্রান্ত ১ হাজার ২৬১ জনের মধ্যে ইতিমধ্যেই সফল চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ হাজার ১৯৪ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন বিশেষায়িত আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৬৭ জন রোগী, যাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যানের তুলনামূলক গ্রাফ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি মাসের ৭ জুন পর্যন্ত জেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৭ জন। এর পরবর্তী ১২ দিনে (৮ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত) আকস্মিকভাবে নতুন করে আরও ২৪৪ জন হামের রোগী হাসপাতালে নিবন্ধিত হন। গাণিতিক হিসাবে এই ১২ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ জন করে নতুন রোগী হাসপাতালে শয্যা নিয়েছেন, যা সংক্রমণের উচ্চ হারকে নির্দেশ করে। যদিও গত ১৭ জুন নতুন রোগী ছিল ২৪ জন, ১৮ জুনে ২৯ জন এবং ১৯ জুনে ১৯ জন; সেই তুলনায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ জনে নেমে আসায় সংক্রমণ সামান্য নিম্নমুখী হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
বর্তমানে আক্রান্ত ও ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং খাজা ইউনূস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিশেষায়িত মেডিকেল টিম কাজ করছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক বায়ুবাহিত রোগ হওয়ায় শিশুদের সুরক্ষায় ইপিআই (EPI) টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত আইসোলেশনে রাখা জরুরি। ল্যাবরেটরি পরীক্ষা শেষে এই প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত উৎস ও জিনগত ধরন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।



