দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন, মানসম্পন্ন মানবসম্পদ গঠন এবং সুশিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক তৈরিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের বহুমুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘মিলিটারী ক্যাডেট কলেজ ফরিদপুর’এবং ‘সেনা পাবলিক স্কুল ও কলেজ রাজবাড়ী’। সাভার ও যশোরে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দুটি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সশস্ত্র বাহিনী দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি গুণগত শিক্ষা প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন এই প্রতিষ্ঠান দুটি খুলনা মিলিটারী ক্যাডেট কলেজের (এমসিএসকে) আদলে পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা একটি সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ পাবে।
বিশেষ করে রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতেই ‘সেনা পাবলিক স্কুল ও কলেজ রাজবাড়ী’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ক্যাডেট কলেজের ধাঁচে গঠিত অনুশাসন ও আধুনিক পাঠ্যক্রম শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে। দেশের পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সাময়িক শিক্ষার প্রসারে এটিকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যশোরের এরিয়া কমান্ডার ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেলসহ বিভিন্ন স্তরের আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
নতুন প্রতিষ্ঠিত এই দুটি প্রতিষ্ঠান ক্যাডেট সংস্কৃতির অনুশাসন, শৃঙ্খলা এবং আধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তির সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে কার্যকর প্রভাব ফেলবে।
সেনাবাহিনী প্রধান উদ্বোধনী বক্তব্যে জানান, সুনাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করা হলো। এটি কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি দেবে না, বরং নীতি-নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আলোকিত করবে।



