― Advertisement ―

পুত্রের আত্মহননে মায়ের করা মামলার মুখোমুখি গুগল ও এআই প্রতিষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর আত্মহত্যা করেছিলেন। ছেলের এই আত্মহননের জন্য তাঁর মা দায়ী করেছেন গুগল ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতকারি এক প্রতিষ্ঠানকে।

ওই মামলায় দাবি করা হয়, চ্যাটবটটের নানা কারসাজির কারণে ওই কিশোর আত্মহত্যা করেছ। এ ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক রায় দিয়েছেন, মামলাটি সামনে এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তিনি মামলাটি খারিজ করার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। ঘটনাটি এআই কম্পানির জবাবদিহিতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জ।

আত্মহনন করা কিশোরের মা গার্সিয়ার দাবি, গুগল এই প্রযুক্তির সহউদ্ভাবক। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছেলের মৃত্যুর পর গার্সিয়া অক্টোবর মাসে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়, চ্যাটবটটি নিজেকে ‘একজন প্রকৃত ব্যক্তি, লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাইকোথেরাপিস্ট এবং প্রাপ্তবয়স্ক প্রেমিক’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। যার কারণে কিশোর সিউয়েল বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, সিউয়েল আত্মহত্যা করার ঠিক আগ মুহূর্ত কিছু কথা বলেছিলেন। ওই সময় তিনি ‘গেম অফ থ্রোনস’ চরিত্র ডেনেরিস টারগারিয়েন রূপে থাকা চ্যাটবটকে বলেন, ‘আমি এখনই বাড়ি আসছি।’

মার্কিন আদালতের বিচারক অ্যান কনওয়ে গতকার বুধবার (২১ মে) জানিয়েছেন, মামলাটি বাতিল করার মতো পর্যাপ্ত যুক্তি গুগল ও ক্যারেক্টার.এআই দেখাতে পারেনি। তিনি আরো জানান, এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে এআই কম্পানির বিরুদ্ধে শিশুদের মানসিক সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া প্রথম মামলাগুলোর একটি।

আত্মহনন করা কিশোরের মা গার্সিয়ার অভিযোগ, তার ছেলে সিউয়েল সেটজার ক্যারেক্টার.এআই-এর একটি চ্যাটবটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার পর আত্মহত্যা করে। অন্যদিকে ক্যারেক্টার.এআই-এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এই মামলার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাদের প্ল্যাটফর্মে শিশুরা যেন ক্ষতিকর আলাপচারিতায় না জড়ায়, সে বিষয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গার্সিয়ার আইনজীবী মিতালি জৈন এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে মন্তব্য করে বলেন, ‘এটি এআই ও প্রযুক্তি জগতে নতুন আইনি দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।’ উল্লেখ্য, ক্যারেক্টার.এআই গুগলের সাবেক দুই প্রকৌশলী তৈরি করেছেন, যাদের পরবর্তীতে গুগল পুনরায় নিয়োগ দেয় এবং তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স গ্রহণ করে।

সূত্র : রয়টার্স, টাইমস অব ইন্ডিয়া