রাজধানীর কলাবাগান ও বনানীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে এক সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন। সোমবার দুপুরে ঢাকা-১০ আসনের জনসভায় তিনি বলেন, কেবল প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে নয়, বরং দেশ ও জাতির কল্যাণে কার্যকর পরিকল্পনা থাকলেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশই এ দেশের মানুষের একমাত্র ঠিকানা। তাই সকল ভেদাভেদ ভুলে পরিশ্রম ও ঐক্যের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলার সময় এসেছে।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষায় বিশেষ কয়েকটি কর্মসূচির কথা জানান। তিনি বলেন, গৃহিণীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে। এছাড়া প্রবাসী ভাই-বোনদের নিরাপত্তা ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনাও তাঁর দলের রয়েছে। গ্রামের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেন তিনি।
ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার করে তিনি জানান, মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য একটি সম্মানজনক ভাতা ও কল্যাণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। অতীতের বিএনপি সরকারের উন্নয়নের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ‘এমার্জিং টাইগার’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। অভিজ্ঞতার আলোকে বিএনপিই বর্তমানের ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামো মেরামত করে নাগরিকদের একটি নিশ্চিন্ত জীবন উপহার দিতে সক্ষম।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান ভোটারদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি পক্ষ নকল ব্যালট ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভোট চুরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এনআইডি নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে যাতে কেউ প্রতারণা করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে বলেন তিনি। ঢাকা-১০ সহ মহানগরীর আটটি জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এই লড়াইয়ে জনগণের পূর্ণ সমর্থন কামনা করেন।



