মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বাগদাদের গ্রিন জোন বরাবরই এক অস্থির কেন্দ্রবিন্দু। শনিবার ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত সেই অস্থিরতাকে আরও এক ধাপ উসকে দিল। হেলিপ্যাডের ওপর দিয়ে কুণ্ডলী পাকিয়ে ওঠা ধোঁয়া কেবল একটি স্থাপনায় হামলার চিহ্ন নয়, বরং এটি ইরাকের মাটিতে চলমান দীর্ঘস্থায়ী ছায়াযুদ্ধের এক ভয়াবহ স্মারক। বারবার একই ধরনের আক্রমণের শিকার হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত এই কূটনৈতিক মিশনটি কেন বারবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে, তা এখন বড় প্রশ্ন।
নিরাপত্তা সতর্কতা জারির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই আক্রমণটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। এটি কেবল একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নয়, বরং সরাসরি ওয়াশিংটনকে দেওয়া একটি কঠোর বার্তা। ইরাকের সার্বভৌমত্ব আর পরাশক্তির প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ খাদের কিনারে। ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠলেও, এই হামলার নেপথ্যে থাকা কুশীলবরা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে আবারও নস্যাৎ করার চেষ্টায় লিপ্ত।
হামলায় তাৎক্ষণিক হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও, এটি মার্কিন কূটনীতিক এবং নাগরিকদের মধ্যে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ভীতির সৃষ্টি করেছে। দূতাবাস কর্তৃক জারি করা ‘চতুর্থ স্তরের নিরাপত্তা সতর্কতা’ প্রমাণ করে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই এমন কোনো বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছিল। এই হামলা কেবল ইরাকের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনারই বহিঃপ্রকাশ।
পরিশেষে বলা যায়, আলোচনার টেবিলের বদলে ক্ষেপণাস্ত্রের ভাষায় কথা বলার এই প্রবণতা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বাগদাদের আকাশে আজ যে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে, তা যদি এখনই প্রশমিত না করা হয়, তবে এর উত্তাপ কেবল ইরাক নয়, ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বব্যাপী।



