― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

দিনের ভোট রাতে হয়েছে প্রশাসনের সহায়তায় : নুরুল হুদার জবানবন্দী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সকাল ৮ থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে। ভোটের আগের দিন রাতে মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোটগ্রহণের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতেন। কিন্তু ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে রাখার অভিযোগ করে বিএনপি।

তবে ওই নির্বাচনে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপ, মাঠ প্রশাসন, পুলিশ এবং তখন গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই – ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পুরো নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করেছিল বলে আদালতের কাছে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন সাবেক সিইসি নুরুল হুদা।

ভোট:

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদের ভোট হয়েছিল। তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ছিলেন কে এম নূরুল হুদা।

জবানবন্দি:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়েছে বলে আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। গত মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দি রেকর্ড করেন সিএমএম আদালতের অ্যাডিশনাল সিএমএম মো. জিয়াদুর রহমান।

সংশ্লিষ্টসূত্র থেকে জানা গেছে, জবানবন্দিতে নুরুল হুদা বলেছেন, আওয়ামী লীগের সরাসরি হস্তক্ষেপে দিনের ভোট রাতে করাসহ নানা অনিয়ম হয়েছে। তখন গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পুরো নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল বলে তিনি পরে বুঝতে পারেন।

তিনি নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, দলের নেতা-কর্মী, নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের ভূমিকার কথা জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পনা করে প্রশাসন ও পুলিশের কিছু অসৎ কর্মকর্তার যোগসাজশে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপি করে দিনের ভোট রাতে গ্রহণ করেছে৷

ভোটের অস্বাভাবিক ফলাফলের তথ্য উল্লেখ করে জবানবন্দিতে নুরুল হুদা বলেন, ‘নির্বাচনের পর আমি রেজাল্ট শিট দেখে জানতে পারি যে অনেক কেন্দ্রে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ ভোট পড়ে, যা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। আরও শুনেছি যে অনেক কেন্দ্রে রাতে ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার ভর্তি করা হয়। রাতেই ভোট দেওয়া হয়ে যায়।’

জবানবন্দিতে আরও বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রভাবে তাদের কর্মী বাহিনী, দায়িত্বে থাকা পুলিশ, রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এই কাণ্ড ঘটেছে বলে আমি মনে করি। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এ ঘটনার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী। আমি বিশ্বাস করি, আমি বা আমার কমিশনের লোকদের অন্ধকারে রেখে এই অরাজক পরিস্থিতি ও ভোটের অনিয়ম করা হয়েছিল ‘

২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন। আর এনএসআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) টি এম জুবায়ের।

বিএনপি অভিযোগ :

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন বিএনপির পক্ষ থেকে লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ জানানো হয়েছিল যে ‘অন্তত দেড়শ আসনে ভোটের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি রাখা হয়েছে।’

কিন্তু ভোটের পরদিন অর্থ্যাৎ ৩১ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নূরুল হুদা বলেছিলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ অসত্য কথা। এই নির্বাচনে কমিশন পুরোপুরি সন্তুষ্ট।’

মামলা:

আওয়ামী লীগের আমলে থাকা সাবেক তিনজন সিইসিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে রোববার (২২ জুন) রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করে বিএনপি। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল রোববার সকালে থানায় ওই মামলার অভিযোগপত্র দেন।

প্রসঙ্গত: গত ২২ জুন মব সৃষ্টি করে নূরুল হুদাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন।

টিবিএম/জ/রা