সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ ও বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের হোটেল ও আতিথেয়তা খাত অভাবনীয় সক্ষমতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পরিচয় দিচ্ছে। ওয়েস্টিন ঢাকা এবং শেরাটন ঢাকার সাধারণ ব্যবস্থাপক গ্যারি ফারস্ট্যাডের মতে, সঠিক কৌশলগত অবকাঠামোগত বিনিয়োগ এবং বাজেট প্রণোদনা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত দেশটির অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে। দুই দশকের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই হোটেল বিশেষজ্ঞ জানান, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সেবার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিগত ৩০ বছরে বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাতের পরিবর্তন ছিল লক্ষণীয়। কয়েকটি গতানুগতিক আবাসন কেন্দ্র থেকে এটি এখন বিশ্বমানের বিলাসবহুল আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের আধুনিক হাব-এ রূপান্তরিত হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্য বিস্তার, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতি এ খাতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অভ্যন্তরীণ পর্যটন এবং প্রসারমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির চাহিদাকে কেন্দ্র করে এই প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতা, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতির ওপর অতিরিক্ত আমদানিশুল্ক এবং চড়া ইউটিলিটি খরচের কারণে বাংলাদেশে বিলাসবহুল হোটেলের রুম ভাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কিছুটা বেশি। এই পরিচালন ব্যয় সামলাতে শতভাগ সেবার মান বজায় রেখে জ্বালানি-সশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার এবং দেশীয় কাঁচামাল সংগ্রহের ওপর জোর দিচ্ছে বড় হোটেলগুলো। পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সহায়তা এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা গেলে বাংলাদেশ সহজেই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ অংশীদারিত্বই এ খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। সরকার যদি যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও গন্তব্য ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করে, তবে বেসরকারি খাত বিশ্বমানের সেবা, মূলধন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অবদান রাখতে পারবে। দেশীয় আতিথেয়তার উষ্ণতা এবং আন্তর্জাতিক মানের সমন্বয়ে গঠিত এই ইকোসিস্টেম বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



