নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বাণিজ্যিকভাবে এখন চাষ করা হচ্ছে আমেরিকার আদি ফসল ক্যাপসিকাম। মিষ্টি মরিচ নামে পরিচিত এই ক্যাপসিকাম বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে অনেক চাষী সফলতাও পেয়েছেন। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ায় কথা জানান চাষীরা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭৬ হেক্টর জমিতে মোট ১ হাজর ৩৫৩ মেট্রিক টন ক্যাপসিকাম উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে ২ হেক্টর এবং ভোলায় ৭৪ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ হয়। গড়ে প্রতি হেক্টরে ৭ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে।
এছাড়াও বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা জেলাতেও উৎপাদন শুরু হয়েছে ক্যাপসিকামের। যা এখন পর্যন্ত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জরিপে অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন ক্যাপসিকাম চাষীরা ।
এদিকে লড়াইপুর চর, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, মুলাদীর চরেও চাষ হচ্ছে ক্যাপসিকাম। পটুয়াখালী, বরগুনার আমতলী, তালতলী ও পাথরঘাটার চরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলাকায়, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ক্যাপসিকাম চাষ শুরু হয়েছে।
মো. ইব্রাহিম নামে এক ক্যাপসিকাম চাষী বলেন, ভোলাতে তিনি ক্যাপসিকামের চাষ করছি প্রায় ১২ বছর ধরে। ক্যাপসিকাম চরে খুব ভালো ফলন দেয়। ভোলার পাশাপাশি তিনি বরিশালের লড়াইপুর চরে তিন বিঘা জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করছেন। এতে তিনি দুইবার ফসল তুলেছেন। আরও ২/৩ বার ফলন উত্তোলন করবেন তিনি।
কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের চাষি আবু সর্দার জানান, তিনি ভোলায় ক্যাপসিকাম চাষ করতে দেখেছেন। সেখানে দেখে চার বছর ধরে নিজেও চাষ করছেন। চলতি বছর তিনি দুই একর জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করছেন। এবার লাভ করতে পারলে আগামী বছর আরও চাষ বাড়াবেন বলেও জানান তিনি।
চাষি মুনছের মিয়া বলেন, ক্যাপসিকাম চাষ খুবই ব্যয়বহুল। এক কেজি বীজ কিনতে দুই লাখ ৮০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লাগে। মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে ৬-৭ লাখ টাকা খরচ যায় । বাজারে যে দাম আছে সে অনুযায়ী দাম পেলে ক্যাপসিকাম চাষে আরও সফল হতে পারতেন ।
আল আমিন নামে এক ক্যাপসিকাম চাষী বলেন, কৃষি অফিস থেকে কখনোই তাদের কোনো সহায়তা করে না। তারা খোঁজখবরও নেন না। নিজেদের টাকায় জমি ভাড়া নিয়ে নিজেরা উৎপাদন করে বিক্রি করেন।
সরকার যদি তাদের বীজ দিত বা স্বল্প সুদে ঋণ দিতো তাহলেও হয়তো ক্যাপসিকাম চাষ করে টিকে থাকতে পারতেন। এমনটি বাজারও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকার। তারা ক্যাপসিকাম প্রতি কেজি ৮০/৯০ টাকা দরে আড়তে পৌঁছে দেন। বাজারে শুনে প্রতি কেজি দেড়শ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের উদ্যান বিশেষজ্ঞ জিএমএম কবীর খান বলেন,দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে ক্যাপসিকাম চাষ হচ্ছে । অনেক চাষি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। আমরা চাষি ভাইদের পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকি।
তিনি আরো বলেন, স্বল্প পরিসরে ক্যাপসিকাম চাষ করে সফলতা পাওয়ায় আবাদের পরিমাণ আরও বাড়বে। বাজারে সঠিক মূল্য পেলে ক্যাপসিকাম চাষ করে দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখতে পারে বলে আশাবাদী এই বিশেষজ্ঞ ।
বিএম/জ/রা



