― Advertisement ―

টুইট করে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয় মেনে নেওয়ার তাগিদ ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে ইরান জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য বা সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে নেওয়া যাবে না। সংঘাত এড়াতে ওয়াশিংটনকে পরাজয়ের বাস্তব পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। অপরদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘অত্যন্ত নিকৃষ্ট দেশ’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্যের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরান যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক পর্যায়ে কিছু অগ্রগতি দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কোনো চুক্তির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ফলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো কার্যত অচল হয়ে আছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, “হরমুজ প্রণালি ইরানের সিদ্ধান্তেই খোলা বা বন্ধ হবে। যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র নিজের পরাজয় মেনে নিচ্ছে এবং অবাস্তব চিন্তা বন্ধ করছে, ততক্ষণ এই অবরোধ বহাল থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “একটি টুইট, একটি বিমানবাহী রণতরি, আদেশ জারি কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতা দিয়ে এই প্রণালির ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব নয়।”

একই সুর তুলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার কোনো সিদ্ধান্ত তেহরান নেয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম শাহরারা নিউজকে তিনি বলেন, প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে হলে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই ইরানের শর্তাবলি মেনে নিতে হবে।

সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে পেট্রোলের দাম প্রায় ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঊর্ধ্বমুখী দামকে যৌক্তিক দাবি করে বলেন, একটি বিপজ্জনক রাষ্ট্রকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে মার্কিনদের এই অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করা সার্থক।

মার্কিন অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪.০৮ ডলারে পৌঁছেছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে পেট্রোলের এই অনিয়ন্ত্রিত দরবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর অবরোধ ও তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও বড় ধরনের মন্দা ও মূল্যস্ফীতির চাপ দেখা দিয়েছে বলে স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।