আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে নেপাল। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে বিক্ষোভকারীদের অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানী কাঠমাণ্ডু সহ বিভিন্ন স্থানে কারফিউ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা যায়, দেশটিতে ২৬ টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কাঠমান্ডুসহ অন্যান্য শহরে বিক্ষোভ করছে জেনজিরা। তরুণ প্রজন্মের এই বিক্ষোভকারীরা “জেন জি” হিসেবে পরিচিত।

বিক্ষোভকারীরা নিউ বানেশ্বরের ফেডারেল পার্লামেন্ট কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে। এ সময় সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবরও পাওয়া গেছে। আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটা পর্যন্ত ওই এলাকায় পরিস্থিতি অশান্ত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে এবং নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করলে তাদের ওপর বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়েছে নিরাপত্তা কর্মীরা।

সরকারের মুখপাত্র এবং যোগাযোগমন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুং হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র সিংহ দরবারের কাছে মাইতিঘরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা সকালে নতুন বানেশ্বরের সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগ করে এবং স্থানীয় প্রশাসন ওই এলাকায় কারফিউ জারি করে। পরে অন্যান্য স্থানেও কারফিউ জারি করা হয়।

সিভিল সার্ভিস হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর দীপক পাউডেল জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ওই হাসপাতালেই একশ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছিল। তাদের অনেকেই রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন।
কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশ অফিসের মুখপাত্র শেখর খানাল বলেছেন,” কতজন আহত হয়েছেন তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিক্ষোভকারী উভয় পক্ষের লোকজনই আহত হয়েছেন।”
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজারাম বাসনেত বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা নিরাপত্তা কমিটির সুপারিশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।



