― Advertisement ―

জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করেই এগোবে আইন মন্ত্রণালয়; প্রথম দিনেই বড় অঙ্গীকার

বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পাহাড় সমান প্রত্যাশার ভার কাঁধে নিয়েছেন নবনিযুক্ত আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সচিবালয়ে তাঁর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের...

জামালপুরে গণধর্ষণের দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের নৃশংস ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাতজন আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অপরাধ প্রমাণ না হওয়ায় মামলার অপর এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড বা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর স্পেশাল জাজ আব্দুর রহিম এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চরম শাস্তির মুখোমুখি হওয়া আসামিরা হলেন—পাপ্পু, বিজু, বাদশা, জুয়েল, আশরাফুল, জসিম ও আসমত। অন্যদিকে আদালতের আইনি পর্যালোচনায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্তি পেয়েছেন ইদ্রিস আলী নামের এক ব্যক্তি। সাজাপ্রাপ্ত ও খালাস পাওয়া প্রত্যেকেই জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা। অন্যদিকে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বাদী তথা ভুক্তভোগী ওই নারী প্রতিবেশী শেরপুর জেলার চকপাঠক নামক এলাকার বাসিন্দা বলে আদালতের নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের নিয়োজিত আইনজীবী ফজলুল হক মামলার বিবরণী তুলে ধরে জানান, বিগত ২০২৫ সালের ২৫ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ভুক্তভোগী নারী শেরপুরের ঝগড়ারচর বাজার থেকে ইদ্রিস আলীর একটি ইজিবাইকে চড়ে বকশীগঞ্জের জানকিপুরে নিজের ভাড়া বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আসামিরা সুপরিকল্পিতভাবে গাড়িটির গতি রোধ করে এবং ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক একটি ভ্যান গাড়িতে তুলে নেয়। পরবর্তীতে বকশীগঞ্জের নীলক্ষিয়া উত্তরপাড়া এলাকার ফরিদ নামের এক ব্যক্তির একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে নিয়ে আসামিরা ভুক্তভোগীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনার ঠিক পরদিন নির্যাতিতা নিজে বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর দীর্ঘ আট মাস অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা শেষে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালে ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর প্রত্যক্ষ জবানবন্দি ও জেরা গ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের অপরাধের সত্যতা পেয়ে আজ এই চূড়ান্ত ঐতিহাসিক রায় ও দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।