নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় একটি আবাসিক ঘরের ভেতর জমে থাকা গ্যাস থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের চার সদস্যসহ অন্তত পাঁচজন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন, ২০২৬) ভোরের দিকে উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর এলাকায় এই আকস্মিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। অগ্নিদগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ওই বাসার রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার কিংবা সরবরাহ লাইনের লিকেজ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের আবদ্ধ বাতাসে গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল। সকালে পরিবারের একজন সদস্য রান্না করার উদ্দেশ্যে দিয়াশলাই বা চুলা জ্বালাতে গেলে আগুনের সংস্পর্শে পুরো ঘরে এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘরের আসবাবপত্রে। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা আশরাফ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বদ্ধ ঘরে রাতভর গ্যাস জমে থাকার কারণেই এই দুর্ঘটনা। প্রতিবেশীরা বিকট শব্দ শুনে ছুটে আসেন এবং দগ্ধদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
এই অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন—চাঁনপুর এলাকার বাসিন্দা মান্নান (৫০), সুলতানা (৩৫), সিয়াম (১৯), মিম (১৩) এবং শিশু হযরত আলী (৮)। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যমতে, দগ্ধদের শরীরের বড় অংশই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান আহতদের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ আপডেট দিয়েছেন। তিনি জানান, দগ্ধদের মধ্যে সুলতানার অবস্থা সবচেয়ে সংকটাপন্ন, তাঁর শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া সিয়ামের ৭৭ শতাংশ, মিমের ৪১ শতাংশ এবং মান্নানের শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
আবাসিক চিকিৎসক আরও জানান, গুরুতর আহত এই চারজনকে বর্তমানে ইনস্টিটিউটের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে ভর্তি রেখে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, মাত্র ৮ শতাংশ দগ্ধ হওয়া শিশু হযরত আলীকে আপতত জরুরি বিভাগের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসন পুরো ঘটনার ওপর কড়া নজর রাখছে। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দল ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাকবলিত বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন এবং গ্যাস লিকেজের সুনির্দিষ্ট উৎস অনুসন্ধানে কারিগরি তদন্ত শুরু করেছেন।



