কৃষি জমির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার ঘটাতে ‘এগ্রিভোল্টেইক্স’ পদ্ধতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। একই জমিতে ফসল ফলানোর পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। সম্প্রতি রাজধানীতে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল স্ট্র্যাটেজিস (আইজিইএস), এইচএসবিসি বাংলাদেশ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং একাধিক জাপানি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশে জমির সীমাবদ্ধতা ও ঊর্ধ্বমুখী বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে উদ্ভাবনী এই মডেলের সুফল ইতিমধ্যেই দেখা গেছে মানিকগঞ্জের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পে। সেখানে উঁচু স্থানে সোলার প্যানেল বসিয়ে নিচে ধান, লালশাক ও ধনেপাতা চাষ করা হচ্ছে, যা ট্র্যাক্টর ও হারভেস্টারের চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, প্যানেলের ছায়ায় ধনেপাতার উৎপাদন সবচেয়ে আশা ব্যাঞ্জক। প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে সেচ পাম্প চালানোয় এটি কৃষি ব্যবস্থার একটি টেকসই চক্র তৈরি করেছে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সমন্বিত জলবায়ু সমাধানের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে জাইকা, জাপান দূতাবাস ও এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা এগ্রিভোল্টেইক্স প্রযুক্তির প্রসারে কারিগরি ও নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দেন। সাধারণ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চেয়ে এর স্থাপন ব্যয় ৩০ শতাংশ বেশি হলেও, প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা পেলে এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করবে।
কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে কৃষক সমাজকে এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কেন্দ্রে রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। জাপানের সফল অভিজ্ঞতার আলোকেও নীতি নির্ধারক ও পরিবেশবিদরা একমত হন যে, বেসরকারী বিনিয়োগ আকর্ষণ ও পরিবেশবান্ধব ব্যবসায়ী মডেল তৈরির মাধ্যমে এই পদ্ধতি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এ ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতা শুধু জ্বালানি খাত নয়, বরং প্রান্তিক পর্যায়ের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।



