― Advertisement ―

এপস্টেইন বিতর্কের ছায়ায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম: প্রেসিডেন্ট বরগে ব্রেন্দের পদত্যাগ

বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মঞ্চ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF) এক চরম নেতৃত্বের সংকটে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আকস্মিক এক ঘোষণার মাধ্যমে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও বরগে ব্রেন্দে। সাড়ে আট বছরের সফল যাত্রা শেষে তাঁর এই বিদায় মোটেও স্বাভাবিক ছিল না। মূলত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর অতীত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে শুরু হওয়া একটি অভ্যন্তরীণ ও স্বাধীন তদন্তের প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। ২০১৭ সাল থেকে ডব্লিউইএফ-এর শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা ব্রেন্দে তাঁর বিবৃতিতে এপস্টেইনের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও ‘সুচিন্তিত বিবেচনার’ কথা জানিয়ে বিদায় নিয়েছেন।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত কিছু চাঞ্চল্যকর নথির মাধ্যমে। সেখানে দেখা যায়, ব্রেন্দে অন্তত তিনবার এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যবসায়িক ডিনারে অংশ নিয়েছেন এবং নিয়মিত ইমেইল ও বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। যদিও ব্রেন্দের দাবি, ২০১৮ সালে প্রথম সাক্ষাতের আগে তিনি এপস্টেইনের কলঙ্কিত অতীত সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তবুও বিশ্বমঞ্চে নৈতিকতার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানে থাকা ডব্লিউইএফ-এর মতো প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে এই সংশ্লিষ্টতা তাঁর অবস্থানের ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দেয়। ২০০৮ সালে নাবালিকা যৌন নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করলেও তাঁর প্রভাব এখনও বিশ্বনেতাদের পিছু ছাড়ছে না।

ব্রেন্দের পদত্যাগের পর ফোরামের হাল ধরতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যালোইস জুইঙ্গিকে। সহ-সভাপতি আন্দ্রে হফম্যান এবং ল্যারি ফিঙ্ক এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, স্থায়ী উত্তরসূরি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত জুইঙ্গি এই দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে বিল ক্লিনটন, ইলন মাস্ক এমনকি ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নামও এই তালিকায় থাকায় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। নৈতিক স্খলন ও পেশাদারিত্বের এই দ্বন্দ্বে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।