― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

একের পর এক দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা, প্রশ্নের মুখে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকার একটি মাজারে গত শুক্রবার হামলা, ভাংচুর ও কবর থেকে লাশ উঠিয়ে তা পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা মাজারটিকে ‘নুরাল পাগলার মাজার’ নামে চেনে। এই ঘটনার পর দেশের বিভিন্নস্থানে একের পর এক মাজারে হামলা বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটছে। এতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নুরাল পাগলার মাজারের মত শুক্রবার হামলা হয়েছে রাজশাহীর পবা উপজেলার একটি খানকা শরিফে। সেখানেও দলবদ্ধ হয়ে স্থানীয়রা পুলিশের সামনেই ভাঙচুর চালায়।

এ ছাড়াও ঢাকা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি দলবদ্ধ হামলা বা বিশৃঙ্খলার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

রাজশাহীর পবা উপজেলায় গত শুক্রবার ‘আজিজ ভাণ্ডারীর খানকা শরিফে’ হামলা ও ভাঙচুরের ছবি।

এসব ঘটনার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করছেন কেউ কেউ। অনেকেই অভিযোগ করছেন, মবের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিলেও বাস্তবে এ নিয়ে কঠোর ভূমিকা রাখতে পারেনি সেনাবাহিনীও।

অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পুলিশ এবং সরকার উভয়কেই সংকটে ফেলছে বলে মনে করে বিশ্লেষকদের অনেকে। তারা বলছেন, ব্যবস্থা নিলে যদি কিছু হয়, এমন চিন্তা কাজ করছে সবার মধ্যেই।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে চাইলে পুলিশকে দিয়েই শুরু করা প্রয়োজন। কাজ করলে চাকরি হারানোর বা জেলে যাওয়ার শঙ্কা থাকবে না এই নিশ্চয়তা না পেলে তারা কাজ করবে কিভাবে?”

“অন্যায় করলে পুলিশেরও আইন অনুযায়ী বিচার করেন কিন্তু তাদের সঙ্গে অন্যায়ের বিচারও তো করতে হবে,” বলেন মনজিল মোরসেদ।

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যাক্তি। সরকারের ভূমিকাও এক্ষেত্রে শক্তিশালী নয় বলেই মনে করেন তারা।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, “রাজনৈতিক কিংবা অরাজনৈতিক যে উদ্দেশ্যেই হোক, মব করে একবার ছাড় পেলে সেই সুযোগ বারবারই নেওয়ার শঙ্কা থাকে, আর বাংলাদেশে এখন সেটিই হচ্ছে। ছোঁয়াচে রোগের মতো সমাজে মব কালচার ছড়িয়ে পড়ছে।”

কেন মাজারে হামলার ঘটনা ঘটলো?
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকার মাজারে হামলার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, একসময় নিজেকে ইমাম মাহাদি বলে দাবি করেছিলেন নুরুল হক নামে ওই ব্যক্তি। এমনকি মৃত্যুর পর তার মরদেহ ওই মাজারের ভেতরে মাটি থেকে কয়েক ফুট উঁচুতে বিশেষ কায়দায় দাফন করা হয়। যা নিয়ে তখন থেকেই ক্ষোভ জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় আলেম সমাজ। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে ওই মাজারে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ তোলেন তারা।

এছাড়া বৃহস্পতিবারের মধ্যে কবর সমতল করাসহ বিভিন্ন দাবি না মানলে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ‘মার্চ ফর গোয়ালন্দ’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় ওই কমিটি।

মাজারটির সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছিল বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যেই। শুক্রবার জুমার নামাজের পর অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে এমন শঙ্কা থেকে সতর্ক অবস্থানও নিয়েছিল পুলিশ, কিন্তু কাজ হয়নি।

এদিকে, রাজশাহীর পবায় খানকা শরিফে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাদের দাবি, হামলার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ওই খানকায় তিন দিনের আয়োজন চলছিল। বৃহস্পতিবার থেকে অনেকেই সেখানে অংশ নিতে এসেছিলেন। তবে, কয়েকদিন যাবৎ কিছু মানুষ এই আয়োজনে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, জুমার নামাজের পর হামলা হতে পারে এমন তথ্য শোনা যাচ্ছিল। এই শঙ্কা থেকে বাড়তি পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছিল ওই এলাকায়। তবে তাতে কাজ হয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার ঘটনায় বারবারই প্রশ্নের মুখে পড়ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এমনকি সেনাবাহিনীর হুঁশিয়ারির পরও থামছে না দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার ঘটনা।

এ বিষয়ে পুলিশের সাবেক প্রধান নুরুল হুদা বলছেন, “কিছু ঘটনা ঘটবে, কিন্তু সরকারের উচিৎ আরও কঠোর হওয়া। তা না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হবে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আন্তর্জাতিক মহলেও সরকার প্রশ্নের মুখে পড়বে।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে সারাদেশে এখন পর্যন্ত ৪৪টি মাজার, অর্ধশতাধিক দরগায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।