আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—তারা ইরানে হামলার জন্য মার্কিন যুদ্ধবিমানকে তাদের আকাশসীমা বা ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না।
মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনায় বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, এই অঞ্চলের বিমানঘাঁটিগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান জ্বালানি সরবরাহ ও উদ্ধার অভিযানে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে মার্কিন সামরিক পণ্যবাহী বিমানের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাবনা আরও জোরদার করছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প কৌশল
ইরানের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, ওমানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাঠানো চিঠির আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এর বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
এদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে বি-২ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে। এর মাধ্যমে ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য বিকল্প সামরিক কৌশলের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত। বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর কঠোর অবস্থান এবং ইরানের প্রতিরোধের ফলে এই সংকট আরও জটিল হতে পারে।
বিএম/সজীব



