ডেস্ক রিপোর্ট :
গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের লক্ষাধিক নেতার কারণে নিজেদের নিরাপত্তা শংকায় পড়েছে ভারত। ফলে ভারত সরকার অবৈধ সবাইকে তাদের দেশ ছাড়তে বলেছে। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে অবৈধ বসবাসকারী বাংলাদেশিদের আটক করে ‘পুশব্যাক’ করছে ভারত।
৫ আগষ্ট বাংলাদেশে সরকার পতনের পর ৯ মাসেরও বেশি সময় নিরাপদে ভারতে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে অবৈধভাবে বসবাস ঠেকাতে ভারত সরকারের বর্তমান অবস্থানের কারণে চাপে পড়েছেন পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতারা। ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের লক্ষাধিক নেতা-কর্মী এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। এখই পুশব্যাকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা না পড়লেও শীঘ্রই তাদের ওপর এ খড়গ নেমে আসবে বলে জানিয়েছে ভারতের কয়েকটি সূত্র।
সূত্রে জানা গেছে, ভারত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় দিতে চায়। আগামী আগষ্টে ভারত সরকার গ্রেপ্তার অভিযান আরো বাড়াবে। দেশটির সরকার পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদেরও ভারত ছাড়তে চাপ দিয়েছে। বাংলাদেশে ফেরার নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে অন্য দেশে আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন।
ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, দেশে ফেরার মতো পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি। জীবনের ঝুঁকি কাটেনি। ফলে এই মূহুর্তে ভারত ছাড়া তাদের জন্য বেশ বিপদের। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ জন বড় নেতা ভারত ছেড়ে আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলে গেছেন। বাকিরাও চেষ্টা করছেন পশ্চিমা কোনো দেশে পাড়ি জমানোর। তবে দেশে ফেরার সাহস দেখাতে পারছেন না কোনো নেতা।
একটি সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি), মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সহযোগী সংগঠন ও জেলা-উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার নেতা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও ভারতে গেছেন। এ পরিস্থিতিতে ভারত ছাড়ার চাপ সবার ভেতরে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে।



