নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরের ১৬ই জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে যে সংঘর্ষ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তাতে আওয়ামী লীগ তথা গোপালগঞ্জবাসী ও এনসিপি উভয়কেই দায়ী বলে বিচার বিভাগীয় তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুজব ও উস্কানি সহ দুই পক্ষের অনঢ় অবস্থান এবং মাঠের বাস্তবতার সাথে গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় করে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাসময়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তহীনতার অনীবার্য পরিণতি ছিল গোপালগঞ্জের সংঘাত।
তদন্ত কমিশনের একজন সদস্য সাজ্জাদ সিদ্দিকী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। গণমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, এই তদন্ত প্রতিবেদনে ৮-১০টি সুপারিশ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে পাঁচটি করণীয় তুলে ধরা হয়েছে।
তবে গোপালগঞ্জে কীভাবে ও কার গুলিতে পাঁচ জন নিহত হয়েছে সে বিষয়টি উল্ল্যেখ নেই।
ওই ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে সাবেক একজন বিচারপতিকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। ঘটনার মূল কারণ কী, কারা এর পেছনে দায়ী, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে করনীয় কী তার সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব ছিল এই কমিশনের।
গত মাসে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ওই তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে দাখিল করা হয়েছে।
তবে সরকার গোপালগঞ্জের তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি।
তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে এনসিপি’র সারাদেশে সমাবেশ যখন গোপালগঞ্জে নাম পরিবর্তন হয়ে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ হয়, সেখান থেকেই সংকটের শুরু।
তদন্ত কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘এই যে নাম পরিবর্তন করাটা মনে হয়েছে গোপালগঞ্জবাসীর ভুল বোঝাবুঝি-উসকানি হিসেবে কাজ করেছে’।
তিনি বলেন, ‘এই যে করতে দেবে না এবং এনসিপির পক্ষ থেকে করবেই–– এই যে বাস্তবতার সঙ্গে এনসিপির চিন্তার দূরত্ব, আর গোপালগঞ্জবাসী তথা আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকদের পাঁচ আগস্ট পরবর্তী সারা দেশের পরিবর্তিত বাস্তবতা মেনে না নেওয়া; এই দুটো বিষয় আসলে কনফ্লিক্টটাকে কিংবা এই যে কার্নেজ যেটা হলো এটাকে একেবারে ইনএভিটেবল (অলঙ্ঘনীয়) করে তুলেছিল’।



