নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় পুলিশ প্রশাসন এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা বাজারমূল্যের ৮০ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবাসহ দুই পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) সকালে চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর এলাকার রূপসা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এই সফল ও চাঞ্চল্যকর অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদক আইন প্রয়োগ ও চোরাচালান দমনে স্থানীয় জেলা পুলিশের এই তাৎক্ষণিক ও বড় সাফল্য জেলাজুড়ে মাদক সিন্ডিকেটের রুট ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারিরা হলেন—মো. পারভেজ এবং বিপ্লব। তারা দুজনেই দেশের প্রধান মাদক রুট হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ভোররাতে রূপসা শপিং কমপ্লেক্সের সামনের পাকা রাস্তায় অবস্থান নেয়। এ সময় সন্দেহভাজন একটি কালো রঙের জিপ গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে গাড়ির পেছনের ডান পাশের দরজার ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি চেম্বারে লুকানো অবস্থায় স্কচটেপ ও নীল জিপারযুক্ত পলি ব্যাগে মোড়ানো ৪১টি প্যাকেটে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন এই লজিস্টিক অভিযান ও মাদক জব্দের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে মো. পারভেজের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ৬টি গুরুতর মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা তার পেশাদার মাদক চক্রের সাথে সম্পৃক্ততার প্রমাণ দেয়। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন মামলা দায়েরসহ পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ও মাদক নীতি গবেষকদের মতে, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে কক্সবাজার হয়ে দেশের অভ্যন্তরে বিলাসবহুল যানবাহনে মাদক পরিবহনের এই আধুনিক কৌশল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নোয়াখালী জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের এই আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করতে এবং এর পেছনে থাকা মূল অর্থদাতাদের খুঁজে বের করতে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের এই বিশেষ চিরুনি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে, যা সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সহায়ক হবে।



