― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

চট্টগ্রামে লবণ কারখানায় আগুন: ১০ শ্রমিক দগ্ধ!

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় একটি লবণ কারখানায় আকস্মিক ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১০ জন শ্রমিক গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে বোয়ালখালী থানার পশ্চিমবঙ্গ বানু মেম্বার টেক পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত ‘কনফিডেন্স লবণ কারখানায়’ এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে অগ্নি নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি স্থানীয় শ্রমিক সংগঠন এবং প্রশাসনের মধ্যে কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শ্রমিকরা যখন কারখানার ভেতরে লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো উৎপাদন লাইনে ছড়িয়ে পড়লে কর্মরত শ্রমিকরা দগ্ধ হন। আহতদের মধ্যে বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা রয়েছেন; যার মধ্যে বোয়ালখালীর দিদারুল আলম ও জাহিদ হোসেন, রাঙ্গুনিয়ার উজ্জ্বল দাশ, সদরঘাটের মোহাম্মদ লিটন, লোহাগড়ার সিরাজুল ইসলাম, রাউজানের জাহিদুল আলম, পটিয়ার মোহাম্মদ আলম ও মাহমুদুল হক এবং চন্দনাইশের সেলিম উদ্দিন অন্যতম।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলা উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, বেলা ১১টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় ১০ জন শ্রমিককে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে স্থানান্তর করেন। চিকিৎসকদের সর্বশেষ মেডিকেল বুলেটিন অনুযায়ী, দগ্ধ শ্রমিকদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তাদের শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার ও শিল্প নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প কলকারখানাগুলোতে নিয়মিত বৈদ্যুতিক অডিট না করা এবং জরুরি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি এই ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বোয়ালখালী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। কারখানায় নিরাপত্তা গাফিলতি প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, যা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচারের পথ সুগম করবে।