নিজস্ব প্রতিবেদক: গুলশান শাহজাদপুরে আবাসিক হোটেলে আগুনে মৃত্যু একজনের পরিচয় সনাক্ত হয়েছে।
তার নাম মিরন জমাদ্দার(৫৫)। মিরনের বাড়ি পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার দারুলহুদা বটতলা গ্রামে।
আগামীকাল মঙ্গলবার তার ছেলে মনিম জমাদ্দারের সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল।
সোমবার (৩মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে মরদেহ চারটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় গুলশান থানা পুলিশ।
ঢাকা মেডিকেলে নিহতের ছেলে মনিম জমাদ্দার বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় তার নিজের সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট।
গত দুইদিন আগে ঢাকা রামপুরায় চাচাতো ভাই সাইদুলের বাসায় উঠি।
আজ সোমবার সকালে বাবা ও মামা হিরন তালুকদার দুজন গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে শাহজাদপুর সৌদিয়া আবাসিক হোটেলের ৪০২ নম্বর রুমে উঠে।
মনিম আরো বলেন, বাবা ও মামার আসার খবর পেয়ে সকালে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। হোটেলে উঠার সময় দেখি নিচ তলায় অনেক ধোয়া। পরে বাবাকে ফোন দেই।
বাবা ফোন ধরে কান্না করতে থাকে। বাবাকে বলি ছাদের দিকে উঠে যেতে। তারপর আর কথা হয়নি।
নিহতের শ্যালক হিরন তালুকদার বলেন, সকালে হোটেলে উঠার কিছুক্ষণ পর দুজন হোটেলের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে নাস্তা করতে যাই।
এরপর তিনি আমাকে রেখেই বিশ্রাম করার জন্য দ্রুত হোটেলে ফিরে যান। এর অল্প সময় পরই আগুন দেখে হোটেলের নিচে দৌড়ে আসি।
তখন আগুনের ধোয়ায় সারা হোটেল আচ্ছন্ন হয়েছিল। ঠিক সেইসময়ই দুলাভাই মিরন আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, আমি হোটেলের ভিতরে আটকে পড়েছি। চারদিকে ধোয়া।
কোথাও যাওয়ার জায়গা পাচ্ছি না। এই বলেই কান্নাকাটি করছিলেন। এরপরই কলটি কেটে যায়। সবশেষ ফায়ার সার্ভিস আগুন নির্বাপনের পর মিরনের মরদেহ চারতলা থেকে উদ্ধার করে।
এদিকে, গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ হোসেন জানান। চারটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া চলছে। দুইটি মরদেহ শরীরে হালকা দগ্ধ আছে।
তিনি আরও বলেন, একটি মরদেহের পরিচয় সনাক্ত হয়েছে। বাকি ৩টি মরদেহ এখনও অজ্ঞাত হিসেবে রয়েছে। তাদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ বছর।
বিএম/জ/রা



