ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার অধিকতর বা পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আবারও পিছিয়েছে। আদালত সিআইডি-এর তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য আগামী ২৮ জুন, ২০২৬ নতুন দিন ধার্য করেছেন। এ নিয়ে দেশের আলোড়িত এই রাজনৈতিক হত্যা মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে ১৫ বারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় পেছাল। বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ’র আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির নিয়ম অনুযায়ী এই আদেশ দেন।
আদালতের প্রশাসনিক নথিসূত্রে জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ বুধবার মামলাটির পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের শেষ দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা তথা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা নির্ধারিত সময়ে কোনো অগ্রগতি বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি। সিআইডির পক্ষ থেকে তদন্ত শেষ করতে অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করা হলে বিজ্ঞ আদালত আবেদন মঞ্জুর করে প্রতিবেদন দাখিলের নতুন এই তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেন।
এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি এই মামলার মূল বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দাখিলকৃত প্রাথমিক অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালতে একটি ‘নারাজি আবেদন’ দাখিল করেছিলেন। বাদীর অভিযোগ ছিল, ডিবির তদন্তে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং নেপথ্যের অনেক প্রভাবশালীর নাম আড়াল করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত বাদীর সেই নারাজি আবেদনটি আমলে নিয়ে ডিবি পুলিশের চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করেন এবং মামলাটি অধিকতর নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিআইডি-কে নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, বিগত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। সেখান থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় একদল মোটরসাইকেল আরোহী দুষ্কৃতকারী হাদির অটোরিকশা লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। ডিবি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছিল, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং ভোটারদের মনে ভীতি ছড়াতে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও মূল শুটার ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।



