― Advertisement ―

জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করেই এগোবে আইন মন্ত্রণালয়; প্রথম দিনেই বড় অঙ্গীকার

বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পাহাড় সমান প্রত্যাশার ভার কাঁধে নিয়েছেন নবনিযুক্ত আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সচিবালয়ে তাঁর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের...

নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের ফাঁসির রায় বাতিল: সিলেটে তাবলিগ আমির হত্যা মামলায় স্ত্রী ফাতিহা মাশকুরা আপিল বিভাগে খালাস

সিলেট আঞ্চলিক তাবলিগ জামায়াতের আমির ইব্রাহিম আবু খলিল (৫৫) হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী ফাতিহা মাশকুরাকে হাইকোর্টের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে সম্পূর্ণ খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালতের এই চূড়ান্ত রায়ের ফলে কারাবন্দী ওই নারীর মুক্তিতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর প্রধান আইনজীবী। আজ বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনিক আর হক।

মামলার বিবরণ ও আইনি পর্যালোচনা থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৮ মে সিলেটের ধোপাদিঘির উত্তরপাড় এলাকায় নিজ বাসার শয়নকক্ষ থেকে গলাকাটা অবস্থায় ইব্রাহিম খলিলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই নিহতের স্ত্রী ফাতিহা মাশকুরাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এই জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে ২০১৬ সালের ৬ জুন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চও নিম্ন আদালতের সেই মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ডেথ রেফারেন্স মঞ্জুর করেছিলেন।

তবে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে, মূল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিটি নেওয়ার আগে পুলিশ হেফাজতে আসামিকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। আইন বিশেষজ্ঞরা আদালতে যুক্তি দেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে একা একজন নারীর পক্ষে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা শারীরিকভাবে প্রায় অসম্ভব। পুলিশি তদন্তের চরম গাফিলতি, বস্তুনিষ্ঠ সাক্ষ্যের অভাব এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সাজানো ভিডিও ট্রায়ালের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আপিল বিভাগ নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের আগের সমস্ত রায় বাতিল করে আসামিকে সসম্মানে খালাসের আদেশ দেন।

বাংলাদেশে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় এটি একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত, যেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অপেশাদারত্ব এবং জোরপূর্বক জবানবন্দি আদায়ের প্রবণতার কারণে একটি হাই-প্রোফাইল হত্যা মামলার রায় সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। দীর্ঘ এগারো বছর কারাভোগের পর ফাতিহা মাশকুরা আইনিভাবে নিরপরাধ প্রমাণিত হলেন। মানবাধিকার কর্মী এবং জুরিস্টরা আপিল বিভাগের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার জন্য একটি বড় বার্তা, যা প্রমাণ করে যে যথাযথ ও নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক তদন্ত ছাড়া কেবল চাপিয়ে দেওয়া জবানবন্দি দিয়ে সর্বোচ্চ সাজা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।