― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

স্বৈরাচার পতনের পর ‘গুপ্তদের’ আত্মপ্রকাশ ঘিরে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী!

ফ্যাসিবাদবিরোধী কঠোর রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের কোনো উপস্থিতি ছিল না, তারা স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর ধীরে ধীরে জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে দেশের মানুষের আস্থা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে এসব তথাকথিত ‘গুপ্ত’ শক্তির প্রভাব থেকে দেশকে মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রেখে জনগণের আকঙ্ক্ষা পূরণে নতুন সরকারকে সহযোগিতার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনে শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমরা অতীতের কঠিন সময়ে রাজপথে একসাথে ছিলাম, বর্তমানে একসাথে আছি এবং ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক পথচলায় একসাথেই থাকব। আপনাদের ছেড়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তাই দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ধৈর্যের কোনো বিকল্প নেই এবং ছোটখাটো মতপার্থক্যকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক বিভেদে রূপ নিতে দেওয়া যাবে না।

একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির অপতৎপরতার দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা ও আমাদের মিত্ররা রাজপথে জীবন বাজি রেখে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছিলাম। অথচ আজ অনেকেই সেই ঐতিহাসিক সফল আন্দোলনের মূল দাবিদার হতে চায়। আমি কারো নাম উচ্চারণ করতে চাই না, তবে কেবল ‘গুপ্ত’ শব্দটি বললেই দেশের সাধারণ মানুষ তাদের সহজে চিনে নেন।”

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ে রাজপথের কোথাও তাদের বিন্দুমাত্র দেখা যায়নি। আমরা বহু খুঁজেও তাদের পাইনি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর এই ‘গুপ্তবাহিনী’ ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আত্মপ্রকাশ করে সুযোগ নিতে চাইছে। দেশের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের আস্থা ধরে রাখতে এই শ্রেণির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।”

রাষ্ট্র সংস্কারের ঐতিহাসিক ‘৩১ দফা’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, যুগপৎ আন্দোলনের সমমনা দলগুলোই কিন্তু কঠিন সময়ে জনগণের সামনে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের স্পষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি দেশের জনগণ নির্বাচনে ওই ৩১ দফার স্বপক্ষেই তাদের চূড়ান্ত রায় দিয়েছে এবং এটি এখন পুরো দেশের প্রধান জনবান্ধব কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। যৌথভাবে প্রণীত এই ৩১ দফা বাস্তবায়নে মিত্রশক্তিগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দায়িত্ব গ্রহণের সময়ের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যখন দায়িত্ব নেয় তখন দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি মৌলিক খাত ছিল চরম ভঙ্গুর। প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাগত বক্তব্যে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে জাপা (কাজী জাফর), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ শীর্ষ শরিক দলের নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।