২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে মিশন শুরু করলেও গ্রুপ পর্বে নিজেদের চেনা ছন্দ ধরে রাখতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়েছে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট পর্তুগালকে। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর পর উজবেকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিলেও, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ফের গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়ে রবার্তো মার্তিনেসের দল। কলম্বিয়া ম্যাচে দলের এমন ম্লান ও অগোছালো পারফরম্যান্সের পর দেশের মাটিতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে পর্তুগাল দল। বিশেষ করে, দলের মহাতারকা ও অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অফ-ফর্ম নিয়ে পর্তুগিজ গণমাধ্যমগুলোতে সমলোচনার ঝড় বইছে। আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) প্রকাশিত দেশটির ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া দৈনিক ‘আ বোলা’ (A Bola)-এর এক প্রতিবেদনে কলম্বিয়া ম্যাচের সবচেয়ে বাজে পারফর্মার হিসেবে সিআরসেভেনকে (CR7) কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও কার্যকারিতার বিচারে প্রধান তারকা রোনালদোকে ১০-এর মধ্যে মাত্র ‘৪’ রেটিং দিয়েছে পত্রিকাটি। ‘আ বোলা’ উল্লেখ করেছে, পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকলেও কলম্বিয়ার রক্ষণভাগ ভাঙতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। ম্যাচে তাঁর নেওয়া শটগুলো কলম্বিয়ান ডিফেন্সে কোনো ভীতি ছড়াতে পারেনি; এমনকি দ্বিতীয়ার্ধে কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাসকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি, যদিও পরবর্তীতে সেই আক্রমণটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। চলতি টুর্নামেন্টে এটি রোনালদোর দ্বিতীয় নিষ্প্রভ ম্যাচ। এর আগে কঙ্গোর বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচেও গোলহীন ও ম্লান ছিলেন তিনি। গ্রুপ পর্বে তাঁর একমাত্র জাদুকরী পারফরম্যান্স ছিল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে, যেখানে তিনি জোড়া গোল করেছিলেন।
অধিনায়ক রোনালদোর ব্যর্থতার দিনে কলম্বিয়ার একের পর এক আক্রমণ সামলে পর্তুগালের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। পর্তুগিজ গণমাধ্যমটি কস্তাকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ঘোষণা করে ১০-এর মধ্যে সর্বোচ্চ ‘৮’ রেটিং দিয়েছে। পুরো ম্যাচে কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ডদের একের পর এক বিপজ্জনক শট রুখে দিয়ে ক্লিনশিট বজায় রাখেন এই গোলরক্ষক। বিশেষ করে, খেলার শেষ মুহূর্তে ৪৩ মিনিটে হুয়ান কুইন্তেরোর নিখুঁত ক্রস থেকে লুইস সুয়ারেজ বল পাওয়ার আগেই দিয়োগো কস্তা যেভাবে অবিশ্বাস্য দক্ষতায় পা দিয়ে বল প্রতিহত করেন, তাকে ‘ম্যাচ সেভিং পারফরম্যান্স’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ‘আ বোলা’।
গ্রুপ পর্বের পরিসংখ্যান ও মাঠের লড়াই বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পর্তুগাল নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে পারলেও কলম্বিয়ার বিপক্ষ ম্যাচে ল্যাটিন আমেরিকার দলটির খেলাই ছিল প্রশংসনীয়। কলম্বিয়াই বেশি গোল করার সুযোগ তৈরি করেছিল। এমনকি অতিরিক্ত সময়ে ডেভিনসন সানচেজ পর্তুগালের জালে বল পাঠালেও প্রযুক্তির মিলিমিটার অফসাইডের সুবাদে গোলটি বাতিল হলে বড় বাঁচা বেঁচে যায় পর্তুগাল। গ্রুপ পর্বের এই অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে আগামী রাউন্ড অব থার্টি-টু বা শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।



