― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এক প্রার্থীর জন্যই দুটি মনোনয়ন ফরম তুললো বিএনপি

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ভুলত্রুটি এড়ানোর কৌশল হিসেবেই একই প্রার্থীর জন্য দুই সেট ফরম নেয়া হয়েছে।

রোববার সকালে শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবন থেকে ফরম দুটি সংগ্রহ করেন দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই ফরম সংগ্রহকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি প্রক্রিয়াটির ব্যাখ্যা দেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনো ব্যক্তিবিশেষের নামে আলাদা করে ফরম কেনা হয়নি। কেবল একক প্রার্থীর মনোনয়নে কোনো আইনি বা তথ্যগত ত্রুটি যাতে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সে উদ্দেশ্যেই দুটি সেট তোলা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল মেনে যথাসময়ে এই ফরম জমা দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একই ব্যক্তির পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া সম্পূর্ণ বৈধ। ইতিপূর্বে ২০২৩ সালেও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের জন্য দুটি ফরম তুলেছিল। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে একটি বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। এরপর ৬ আগস্ট কমিশন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুসারে, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এবারের নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকলে তা হবে ১৯৯১ সালের পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সে বছর সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস। এর পরবর্তী প্রতিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

জাতীয় সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর বিজয় প্রায় নিশ্চিত। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতার কারণে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংসদ অধিবেশন না থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে একদিনের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করবেন।