নিজস্ব প্রতিবেদক
গত শুক্রবার রাতে জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে বদলে যেতে শুরু করেছে রাজানীতির হিসাব-নিকাশ।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলায় ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারসহ দেশের প্রায় সব দল এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এতে রাজনৈতিক অঙ্গন আবার সরগরম হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘটনাটি কেবল তাৎক্ষণিক সহিংসতার মধ্যে আর সীমাবদ্ধ নেই,বরং আগামী নির্বাচন ও জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ অঙ্কের সাথেও জড়িয়ে গেছে।
রাজনীতিতে এখন দুইটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে- প্রথমত, জাতীয় পার্টিকে ঘিরে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কি শুরু হয়েছে? আর দ্বিতীয়ত, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দলের আসনে বসানোর কোনো গোপন প্রচেষ্টা কি চালানো হচ্ছে?
গণঅধিকার পরিষদ বরাবরই জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাদের নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে। তবে এতদিন সেটি খুব আলোচনায় না এলেও নুরের ওপর হামলার পর এই দাবি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। সেই শূন্যতা পূরণে কে বিরোধী দলের আসনে বসবে, কে নির্বাচন-উত্তর ভারসাম্য রক্ষা করবে-সেই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গণে মুখ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক কাজে লাগিয়ে জাপাকে সামনে আনার চেষ্টা চলছে, যাতে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনও সহজ হয়।
নুরের ওপর হামলার পর গণঅধিকার পরিষদ জাপাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, “আওয়ামী লীগের এজেন্টরা মিলে জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল বানানোর চেষ্টা করছে।”
গণঅধিকার পরিষদের এক নেতা ফেসবুকে লিখেছেন, “ভারতের প্রত্যক্ষ মদদে জাপার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা চলছে, আর নুর ভাই প্রথম রক্ত দিলেন।”
রাজধানীতে গতকালও দ্বিতীয় দফায় জাপার কার্যালয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ রবিবার বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিকেল সাড়ে চারটায় ও এনসিপির সঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির কূটনৈতিক প্রভাবের সমীকরণে বাস্তবতা হলো- ভারত ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে ‘ম্যানেজেবল’ দল চায়। জাপা সবসময় নরম। তাই দিল্লি চাইতে পারে- বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে জামায়াতকে এড়িয়ে জাপাকে নিয়ন্ত্রিত বিরোধী হিসেবে দাঁড় করাতে।



