― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

রপ্তানি বহুমুখীকরণের ট্রাম্পকার্ড হতে পারে হালাল পণ্য: বিসিআই

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ একাধিক বাণিজ্যিক সুবিধা সংকুচিত হয়ে আসবে। এ সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় রপ্তানি আয় বাড়াতে ‘হালাল পণ্য ও সেবা’ হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিকল্প সম্ভাবনাময় খাত। ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীতকরণ ও ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে বৈশ্বিক লক্ষ্য সরকার গ্রহণ করেছে, তা অর্জনে হালাল শিল্পই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত কৌশল।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সম্প্রতি এ বিষয়ক একটি নীতি গবেষণা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। শীর্ষ এই ব্যবসায়ী সংগঠনটি গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রতিবেদনটির সারসংক্ষেপ তুলে ধরে। বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) প্রধানমন্ত্রীর নিকট “হালাল পণ্য বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের অন্যতম প্রধান খাত” শীর্ষক পলিসি গাইডলাইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। একই সঙ্গে সুপারিশমালা সংবলিত এ নথিটি সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সচিবদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনবহুল দেশ হলেও বৈশ্বিক বিশাল হালাল বাজারের তুলনামূলক সুফল তুলে নিতে পারছে না। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ২ বিলিয়ন মুসলিম এবং বিপুলসংখ্যক অমুসলিম ভোক্তাদের কারণে ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের বাজার আকার দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৫.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। গড়ে প্রতি বছর এই চাহিদা ১২.৪০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ২০৩৪ সাল নাগাদ ৯.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। তবে আন্তর্জাতিক এ চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহের পরিমাণ মাত্র ২০ শতাংশ। যেখানে বাংলাদেশ বর্তমানে মাত্র ৯৪০ মিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্য রপ্তানি করে, যা বৈশ্বিক চাহিদার মোটে ০.০৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মোট রপ্তানি আয়ের ৮১.৫ শতাংশই এককভাবে পোশাক খাত (RMG) নির্ভর। এই একক নির্ভরতা কাটানোই এখন নির্মম অর্থনৈতিক বাস্তবতা। যদিও বর্তমানে বেঙ্গল মিট, প্রাণ গ্রুপ, আকিজ, স্কয়ার, গোল্ডেন হারভেস্ট এবং আহমাদুল্লাহ এগ্রো ফুডসের মতো হাতেগোনা কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে হালাল পণ্য রপ্তানি করছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে এখনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মানসম্পন্ন ল্যাব ও সুনির্দিষ্ট ‘বাংলাদেশ হালাল ব্র্যান্ডিং’ নিশ্চিত করা যায়নি।

দেশে ২০০৭ সাল থেকে বেসরকারি উদ্যোগে হালাল সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখন পর্যন্ত একক ও মানসম্মত সার্টিফিকেশন অথরিটি গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)— এই দুটি পৃথক সংস্থা আলাদাভাবে হালাল সনদ দিচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে সময় ও অর্থের অপচয় ঘটছে। বিসিআই তাদের নীতিমালায় সব কাজ এক ছাতার নিচে এনে দ্রুত ‘বাংলাদেশ হালাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ গঠনের জোর সুপারিশ জানিয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের জিসিসিভুক্ত দেশসমূহ এবং ইউরোপ-উত্তর আমেরিকার মুসলিম ডায়াসপোরা সমৃদ্ধ দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশের জন্য অবিলম্বে মিউচুয়াল রিকগনিশন এগ্রিমেন্ট (MRA) সম্পাদনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্যের আন্তর্জাতিক ট্রেড সহজ করতে এইচএস কোডের (HS Code) আদলে পৃথক ‘হালাল কোড’ প্রবর্তন করা জরুরি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে এই সেক্টরে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের ধারাবাহিক পলিসি সাপোর্ট ও প্রণোদনা কাঠামোর সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চেয়েছে বিসিআই।