― Advertisement ―

যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় হতাশ উগ্রবাদী হিন্দুরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে টানা ১৯ দিনে ধরে চলা উত্তেজনার অবসান হওয়ায় দারুন খুশি হয়েছেন ও স্বস্তি পেয়েছেন সীমান্তের দুইপাড়ের থাকা বাসিন্দারা। এ ছাড়াও দুই দেশেরই শান্তিকামী মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করলেও যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় হতাশ উগ্রবাদী হিন্দুরা। যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় তারা খুশি হতে পারেননি। এই ঘোষণায় তাঁরা হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) গত শুক্রবার নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে লিখেছে, ‘যাচনা ন্যাহি, আব রণ হোগ্যা’। এর আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায়, ‘অনুরোধ নয়, এবার যুদ্ধ হবে’। এই পঙ্‌ক্তির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিমানবাহিনীর জাম্পস্যুট পরা একটি ছবিও যুক্ত করা হয়।

উল্লিখিত পঙ্‌ক্তিটি বিখ্যাত হিন্দি কবি রামধারী সিং দিনকরের একটি কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এটি যখন পোস্ট করা হয়, তখন উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছে ছিল যে মনে হচ্ছিল, ভারত-পাকিস্তান একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

বিজেপির ওই পোস্টের ২৪ ঘণ্টার একটু বেশি সময় পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ দেশটির অন্যান্য কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। ফলে সংঘাত হঠাৎ থেমে যায়।

হিন্দুত্ববাদী কর্মী, সরকারপন্থী সংবাদমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, এমনকি বিজেপি নেতারাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, শক্তিমত্তার দিকে এগিয়ে থেকেও যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ভারত আত্মসমর্পণ করেছে।

৩১ বছর বয়সী সায়ন লাহিড়ী বিজেপির বিরুদ্ধে ‘যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে মাথা নোয়ানোর’ অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানকে বিশ্বমানচিত্র থেকে মুছে ফেলাই ছিল দেশপ্রেমী সনাতনী হিন্দুদের দাবি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখনো পেহেলগাম হত্যাযজ্ঞের দায়ীদের খুঁজে বের করতে পারিনি।’

আরএসএসের এই কর্মী বলেন, ‘ইয়েহ দিল মাঙ্গে মোর।’ মানে, এই হৃদয় আরও চায়।

বিজেপির সমর্থক শেফালি বৈদ্য এক্সে লেখেন, ‘স্পষ্টতই এগিয়ে থাকার পরও যখন আপনি সরে দাঁড়ান, তা কিছুটা হতাশাজনক মনে হয়।’ তবে দেশের নেতারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটার ওপর নিজের ভরসা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

যুদ্ধবিরতির কারণে বিজেপির অন্য সমর্থকেরা আরও কঠোরভাবে মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চেয়েছেন। বিজেপির ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শক্তি সিং প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ট্যাগ করে এক্সে লিখেছেন, পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যা করেছিল, দাউদ ইব্রাহিম ও হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে ভারত সেই ধরনের কিছু করতে পারেনি। তাঁর মতে, ‘যতক্ষণ পর্যস্ত এসব জঙ্গি জীবিত আছে, ততক্ষণ যুদ্ধবিরতির কোনো অর্থ হয় না।’

গুয়াহাটিভিত্তিক ব্যবসায়ী ও বিজেপির সদস্য মুন তালুকদার বলেন, ‘হঠাৎ যুদ্ধবিরতি ভারতের ভূখণ্ডে জঙ্গি পাঠানো থেকে পাকিস্তানকে থামাতে পারবে না।’ মুন একসময় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের নেতা ছিলেন।

৩০ বছর বয়সী মুন বলেন, ‘ভারতের উচিত ছিল পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর দখল করে নেওয়া। যতক্ষণ না আমরা সেই কাশ্মীর দখল করছি, ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ চলতেই থাকবে। যদি যুদ্ধবিরতি না হতো এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর দখল করা যেত, তাহলে ভারত প্রমাণ করতে পারত যে আমরা দুর্বল দেশ নই। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো আমরাও বিশ্বশক্তিগুলোর সমতুল্য।’