― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গত ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের চার মাস পর নিজের প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া ও চীন মিলিয়ে ছয় দিনব্যাপী এই বহুমাত্রিক এশীয় সফরটি আগামী ২১ জুন (রোববার) কুয়ালালামপুর থেকে শুরু হয়ে বেইজিং হয়ে ২৬ জুন ঢাকায় সমাপ্ত হবে। গত শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে সরকারপ্রধানের এই মেগা সফরের খুঁটিনাটি ও দ্বিপাক্ষিক এজেন্ডা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। এই সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা, কুয়ালালামপুর এবং বেইজিংয়ের কূটনৈতিক অলিন্দে এখন জোর প্রস্তুতি চলছে, যা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন কৌশলগত ভারসাম্যের বার্তা দিচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (PMO) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর কুয়ালালামপুর সফরের এক নম্বর স্ট্র্যাটেজিক এজেন্ডা হচ্ছে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা। বর্তমানে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম এই জনশক্তি রপ্তানি বাজারটি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ রয়েছে। গত এপ্রিলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনের কুয়ালালামপুর সফরের ধারাবাহিকতায় এবার সরকারপ্রধানের সরাসরি হস্তক্ষেপে অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধকরণ এবং বাজার উন্মুক্তকরণের চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। এই সফরে মালয়েশিয়ার সাথে শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং একটি সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতি মহলে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে ঘিরে। ২৩ জুন কুয়ালালামপুর থেকেই বেইজিং পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেইজিংয়ে চীনের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা খাতের সামগ্রিক আপগ্রেডেশনসহ অন্তত ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক দলিল ও প্রটোকল স্বাক্ষরের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (MoU), দুটি চুক্তি, একটি স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি বিশেষ প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে বাংলাদেশে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, যমুনায় আরেকটি বহুমুখী সেতু এবং ৪ হাজার কোটি টাকার চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) এই সফরের মূল অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি।

আঞ্চলিক রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে ট্র্যাডিশনাল ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও চীনকে সরাসরি এড়িয়ে তৃতীয় একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া তারেক রহমানের একটি অত্যন্ত পরিপক্ক ও কৌশলগত মাস্টারস্ট্রোক। এর মাধ্যমে ঢাকা মূলত নয়া দিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্বের দ্বন্দ্বে কোনো পক্ষে না গিয়ে একটি স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির (Balanced Foreign Policy) স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের পরিবর্তিত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে চীনের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগ এবং ভারতের সাথে সম্পর্কের ধীরগতির পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে এই যৌথ এশীয় সফরটি ঢাকার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।