মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছানোয় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের সরবরাহ শৃঙ্খলা গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর তীব্র পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে আন্তর্জাতিক পণ্য বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ফের লাফিয়ে বেড়েছে। বিশেষ করে, সপ্তাহান্তের এই বিপজ্জনক সংঘাতের পর বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে বাণিজ্যিক নৌচলাচল বিঘ্নিত হওয়ার নতুন শঙ্কা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে একপ্রকার অস্থিরতা বিরাজ করছে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার বরাত দিয়ে আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) এই বাজারভিত্তিক প্রতিবেদনটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাজারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে আজ সোমবার কার্যদিবসের শুরুতেই তেলের দাম প্রায় ০ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আগামী আগস্ট মাসে বৈশ্বিক সরবরাহের চুক্তি অনুযায়ী প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ২১ ডলারে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মূল ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলার পর যে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেই যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগের দিনের তুলনায় বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১২৭ সেন্ট বেশি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত দুই সপ্তাহ আগে দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মনে যে স্বস্তি ফিরেছিল, তা অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী ও অপরিণত প্রমাণিত হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতির সমান্তরালে সোমবার সকালে এশিয়ার প্রধান প্রধান পুঁজিবাজারগুলোতে এক ধরনের মিশ্র ও নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দামামায় জাপানের টোকিও এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। জাপানের প্রধান বাজার সূচক ‘নিক্কেই ২২৫’ (Nikkei 225) আজ প্রায় ০ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে; অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সূচক ‘কসপি’ (KOSPI) বড় পতনের মুখে পড়ে প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। তবে জাপানি ও কোরিয়ান বাজারের এই বড় ধসের বিপরীতে হংকং এবং তাইপের পুঁজিবাজারের সূচকগুলো কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে থেকে দিন শেষ করেছে।
এই নতুন উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের একমাত্র রুট হরমুজ প্রণালি। গত সপ্তাহে ওই প্রণালিতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগে গত শুক্র ও শনিবার ইরানি ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। এর জবাবে ইরানের এলিট ফোর্স আইআরজিসি বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন কৌশলগত সামরিক ও নৌঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে। যদিও রোববার রাতে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে যে, দুই পক্ষই সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতি দিয়ে আগামী মঙ্গলবার কাতারের দোহায় ফের কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে, তবে তেহরান প্রশাসন এখনো এই আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।



