― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তে উত্তাল ঢাকা: সংঘর্ষে দুই পুলিশ আহত

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা মহানগরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে রাজধানীর দয়াগঞ্জ মোড়ে বুধবার বেলা ১২টার দিকে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন রিকশাচালকরা। এই বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়, যেখানে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফারুক আহম্মেদ জানিয়েছেন, মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের অনুমতির দাবিতে চালকরা দয়াগঞ্জ মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ চালকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়, যার ফলে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ওসি আরও জানান, পুলিশের পদক্ষেপে বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছেড়ে দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

গতকাল উচ্চ আদালত ঢাকা মহানগরে তিন দিনের মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন, ও ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ১৩ লাখ রিকশার মধ্যে বড় একটি অংশ ব্যাটারিচালিত। বিশেষত, পুরনো প্যাডেলচালিত রিকশায় ব্যাটারি সংযোজনের মাধ্যমে এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শহরের অলিগলিতে এসব রিকশার আধিপত্য বেশি থাকলেও সুযোগ পেলেই মূল সড়কে চলাচল করছে, যা নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

রাজধানীর খিলগাঁও, মান্ডা, বাসাবো, মানিকনগর, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল জনদুর্ভোগ এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যদিও ঢাকা সিটি করপোরেশন বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছে, তারপরও এই অবৈধ বাহন বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

রিকশাচালকরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা তাদের জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তারা বেকার হয়ে পড়বেন। অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান না এলে ঢাকা মহানগরের পরিবহন ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।